শেরপুর জেলার সদর উপজেলার আংশিকসহ ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দী উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে শত শত একর জমির ধান, গাছপালা, ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত এবং পোলট্রি খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষ করে শত শত একর জমির পাকা ও আধা পাকা ধান মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ফলে ওইসব এলাকায় কৃষকেরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার কিছু অংশ এবং ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দী উপজেলার লংগরপাড়া, কুরুয়া, কুড়িকাহনীয়া, রহমতপুর, জগৎপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের উপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায় এবং একই সঙ্গে মুষলধারে শীলা বৃষ্টি হয়।
এ সময় এসব গ্রামের শত শত জমির পাকা ও আধা পাকা ধান মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ও ফলদ গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন পোলট্রি খামারের ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে শত শত মুরগি মরে যায়। ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ায় ভোর থেকেই শহর ও বিভিন্ন গ্রামের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে কুড়িকাহনীয়া গ্রামের নবিকুল ইসলাম, তমিজ উদ্দিম, মমতাজ মিয়া, ইয়াসিনসহ শতাধিক কৃষক জানান, শীলা বৃষ্টিতে তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেকেই তাদের খাবারের ধানই রইল না। অনেকেই ঋণ করে এ আবাদ করায় তারা এখন ঋণ শোধ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে। গোয়ালের গরু বিক্রি করার চিন্তা করছে কেউ কেউ।
শ্রীবর্দী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হচ্ছে। ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে।
এদিকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মুহিত কুমার দে জানান, প্রাথমিকভাবে সদর উপজেলার কিছু অংশসহ ঝিনাইগাতি ও শ্রীবর্দী উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কৃষি কর্মকর্তা মাঠে আছেন।