ফটিকছড়ির হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র নাথ। ত্রাণের টাকা দেওয়া হবে বলে তার কাছ থেকে এনআইডি ও ছবি নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল আলম। পরে তার কাছ থেকে নেওয়া কাগজপত্র ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করেন। নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকের বিকাশে যখন ৮ হাজার ৫১ টাকা (অর্ধেক) মজুরি আসে, সেই টাকা কৌশলে তুলে নেন ইউপি সদস্য জহুরুল।
একই রকম ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাবিব, আমান উল্লাহ, বেলাল উদ্দীন, কাজল কান্তি বিশ^াস নামের একাধিক শ্রমিক।
তারা জানান, কী কাজ করা হবে সে কথা বলেননি মেম্বার। কিন্তু বিকাশে যখন টাকা আসে, সেই টাকা ফেরত দিতে বলেন তিনি। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করার পর শ্রমিকদের কাজ করে টাকা নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ইউপি সদস্য জহুরুল।
জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকরা কাজ করে হাজিরায় স্বাক্ষর দেওয়ার কথা থাকলেও এই ওয়ার্ডে অভিযোগকারী শ্রমিকরা কাজের বিস্তারিত জানেন না।
এ ব্যাপারে হারুয়ালছড়ি ইউপি সচিব আবদুল হালিমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, কাজ এবং শ্রমিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়গুলো তদারকি করেন ওয়ার্ড মেম্বার।
তথ্যমতে, কর্মহীন অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান করতে সরকার এই কর্মসৃজন প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। এই প্রকল্পের অধীনে ৪০ দিন কাজ করে প্রতিজন প্রায় ১৬ হাজার টাকা করে পাবেন। হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে ১২১ জন শ্রমিকের নাম এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইউপি সদস্য জহুরুল আলমের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে এতে নাম রয়েছে ২৮ জনের। এখানে মৌসুমি কর্মহীন অতিদরিদ্রকে কাজের আওতায় আনার নিয়ম থাকলেও, এই ওয়ার্ডে শান্তিরহাট বাজারের এক ব্যবসায়ীর নামও পাওয়া যায়। কৌশলে সেই ব্যবসায়ীর বিকাশের টাকাও তুলে নেন ইউপি সদস্য জহুরুল।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য জহুরুল আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা টাকা তুলে কাজ করতে চায় না বলে আমি তাদের টাকা তুলে জমা রেখেছি।’
ঘটনার ব্যাপারে জানতে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইকবাল চৌধুরীকে কয়েক দিনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, প্রকল্পের মাস্টাররোল জমা দেওয়ার পর শ্রমিকের মজুরি বিকাশে যায়।
এ ব্যাপারে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিনুল হাসান।