আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে সয়াবিন তেলের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে খোলা সয়াবিন তেলের দাম কেজিতে ২৫ টাকা করে বেড়েছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো বাড়েনি।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি খোলা সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা করে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৮ টাকা লিটার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। মোকামে তেলের দাম বাড়ায়, বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের।
সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের সব দোকানেই তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, তারপরেও তেলের দাম বাড়তির দিকে। এদিকে তেলের বাড়তি মূল্য নেওয়া হলেও কোন রসিদ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব দোকানে মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা থাকলেও অনেক দোকানেই বর্তমানে মূল্য তালিকা নেই। দু-একটি দোকানে তালিকা থাকলেও তাতে পণ্যের দাম লেখা নেই।
হিলি বাজারে তেল কিনতে আসা শেরেগুল ইসলাম বলেন, বাজারে চাল থেকে শুরু করে তেল পর্যন্ত সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেশি, এতে করে আমাদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একেতো রমজানের বাড়তি খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার ওপর আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি আমাদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম কেজিতে ২৫টাকা বেড়েছে। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই তেলের দামে, যে যেমনভাবে পারছে তেলের দাম বাড়াচ্ছে। এতে করে আমরা সাধারণ মানুষ চলব কীভাবে, আমাদের তো আয় সেভাবে বাড়ছে না।
তেল কিনতে আসা এরশাদ হোসেন বলেন, তেলের দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। গত সপ্তাহে তেল কিনলাম ১৬০ টাকা কেজি, আজ সেই তেলের দাম বেড়ে হয়ে গেছে ১৮৫টাকা। এভাবে তেলের দাম বাড়লে আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আমরা কীভাবে চলব! সারা দিনে কাজ করে মজুরি পাই ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকা, তেল কিনতেই যদি এত টাকা লাগে তাহলে আর অন্য বাজার করব কীভাবে। আমাদের মতো মানুষদের খুব সমস্যা হচ্ছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে এক খুচরা তেল বিক্রেতা বলেন, বাজারের সব মহাজনের কাছেই তেল রয়েছে। যে তেল পূর্বের দামে কেনা, সেগুলোও এখন তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে ১৫৮ থেকে ১৬০টাকা কেজি তেল কিনে আমরা তার সাথে এক-দু টাকা লাভ হিসেব করে বিক্রি করতাম। এখন তারা আমাদের নিকট ধরছে ১৮৩ থেকে ১৮৫টাকা, যার কারণে আমাদের বাড়তি দামে তেল বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে তারা যে তেলের বাড়তি মূল্য নিচ্ছে তার কোনো রসিদ দিচ্ছে না। তারা চাইলে বলছে রসিদ নেই, এভাবে তেল নিলে নাও না হলে যাও। বাধ্য হয়ে আমাদের রসিদ ছাড়াই বাড়তি দামে তেল কিনে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন যখন অভিযান চালাচ্ছে তখন তো আর এসব বুঝছে না, তারা আমাদের জরিমানা করছে। তাই তেল বিক্রি করা বন্ধ করে রাখতে হবে, এছাড়া কোনো উপায় নেই।
হিলি বাজারের তেল বিক্রেতা অলক অধিকারী বলেন, তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এর মূল কারণ হলো মিল থেকে আমাদের ঠিকমতো তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সয়াবিন তেল চাইলেই বলছে তেল নেই। তারা সিন্ডিকেট করে তেল মজুত রেখে দাম বাড়াচ্ছেন, যার কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমায় ও বাড়তি দামে ক্রয়ের কারণে আমাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম এখনো বাড়েনি। তবে যেহেতু খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ছে, তাতে করে বোতলজাত তেলের দামও বাড়তে পারে। এছাড়া বোতলজাত তেলের সঙ্গে লবণ নিতে হবে, কোম্পানি থেকে এমন প্যাকেজ করে দেওয়ার কারণে কাস্টমাররা নিতে চাচ্ছে না; যার কারণে আমাদেরও বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের কারসাজি করতে না পারে সে জন্য বাজারগুলোতে আমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই মূল্যতালিকা না টাঙানোয় ও বাড়তি মূল্যে পণ্য বিক্রির দায়ে বেশ কয়েকটি দোকানকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে আমাদের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।