পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। শনিবার বিক্রি করা হয় ২৭ এপ্রিলের টিকিট। এদিন টিকিট পেতে স্টেশনগুলোতে রাত থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন টিকিট প্রত্যাশীরা।
বেশির ভাগ যাত্রী টিকিট পেলেও অনেককে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। কাউন্টার থেকে টিকিট শেষ হওয়ার কথা জানালে এ সময় অপেক্ষমাণ যাত্রীরা হইচই শুরু করেন।
শনিবার কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, মধ্যরাত থেকে টিকিট পেতে লাইনে দাঁড়িয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার আগাম টিকিট পেতে যারা এসেছেন তাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। এ সময় নারীদের লাইন দীর্ঘ হতে দেখা যায়। অপেক্ষারত মানুষের বেশির ভাগই সেহরি করেই চলে এসেছেন কাউন্টারে।
সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে কথা হয় নাফিউল নামে এক টিকিট প্রত্যাশীর সঙ্গে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর টিকিট পেয়েছেন নাফিউল। তিনি বলেন, রাত তিনটার সময় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সঙ্গে খাবার নিয়ে এসেছিলাম। এখানেই সেহরি করেছি। অবশেষে সকাল সাড়ে আটটায় টিকিট পেলাম। পরিবারের সবাই মিলে এবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ঈদ করব এর চেয়ে আনন্দের কি আছে।
টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় আবিদ আলম নামের একজনকে। তিনি জানান, ভোর রাতে ধানমন্ডি থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। তবুও সামনে প্রায় ২০০ জনের মত ছিল। টিকিট পাব কিনা তা নিয়েও অনিশ্চিত ছিলাম । টিকিট পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি অনেকেই। এ সময় টিকিট প্রত্যাশীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
খুলনগামী ট্রেনের টিকিট নিতে আসা নজরুল ইসলাম বলেন, সেহেরি খেয়েই স্টেশনে এসেছি। এসে দেখি বিশাল লাইন। তবুও অনেক আশা নিয়ে কয়েক ঘণ্টা লাইনে ছিলাম। এখন বলা হচ্ছে টিকিট শেষ। আজকে না হয় অফিস বন্ধ ছিল। কাল থেকে তো অফিস করতে হবে। এবার ট্রেনে বাড়ি যেতে পারব কিনা সন্দেহ আছে।
মজিবুর রহমান নামে আরও জানান, টিকিট বিক্রি শেষে অনেকক্ষণ ভাবলাম। আশপাশের পরিস্থিতিতে মনে হয় তারপরের দিন ২৮ তারিখের টিকিট পাওয়া যাবে, কারণ আমরা লাইনের অনেকটাই এগিয়ে এসেছি। টিকিট কিনতে হলে এখন বাধ্য হয়েই ২১ ঘণ্টা এখানেই লাইনে থাকতে হবে। এ ছাড়া টিকিট পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
এ বিষয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাসুদ সারোয়ার বলেন, টিকিট কাউন্টারের সংখ্যা পর্যাপ্ত। একটা টিকিটের বিপরীতে কখনো ৬০০-৭০০ মানুষের চাহিদা। আগে কমলাপুর থেকে সব ট্রেনের টিকিট বিক্রি হতো। এবার সেটি ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার অন্য আরও চারটি স্থান থেকে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। তবু স্টেশনে মানুষের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, টিকিট কাটার সময় জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখা হচ্ছে, যাতে টিকিটটা বাইরে বা কোনো কালোবাজারির হাতে না যায়। এ ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট। টিকিট অন্য কোথাও পাওয়ার সুযোগ নেই।
অনলাইনে টিকিট প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সহজ ডট কমের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহাত আহমেদ বলেন, প্রথমবারের মতো অনলাইন থেকে গ্রাহকেরা সফলতার সহজ ডট কম থেকে ঈদের টিকিট কাটছে। ঈদের টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই প্রতি মিনিটে অনলাইনে প্রায় ৫ লাখ হিট বা ট্রাফিক সফলভাবে পরিচালনা করতে পেরেছে সহজ। একই সঙ্গে দেশব্যাপী ৭৭টি স্টেশনের কাউন্টারে সফলতার সঙ্গে চলছে সহজের টিকেটিং সিস্টেম।
কমলাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কমলাপুর স্টেশনে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চল ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী আন্তনগর ট্রেনের টিকিট এবং তেজগাঁও স্টেশনে ময়মনসিংহ, জামালপুরগামী, দেওয়ানগঞ্জ স্পেশালসহ ওই অঞ্চলের সব আন্তনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের এবং ফুলবাড়িয়া পুরোনো রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী আন্তনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।