নলকা ও চান্দাইকোনা সেতু খুললেও যানজটের শঙ্কা

ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২২ জেলায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নলকা ও চান্দাইকোনা সেতু দুটির উত্তরবঙ্গগামী লেন খুলে দেয়া হচ্ছে আগামীকাল সোমবার।

তারপরও মহাসড়কে ১২ স্থানে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। স্থানগুলো হলো- বঙ্গবন্ধু গোল চত্বর, সয়দাবাদ মোড়, মুলিবাড়ি মোড়, কড্ডার মোড়, পাচিলা, ফুড ভিলেজের সামনের সেতু, ঘুড়কা, দাদপুর ও সাহেবগঞ্জ।

এসব স্থানের কোথাও সরু, কোথাও খানাখন্দ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ সমস্যা আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। ফলে যানজটের আশঙ্কা নেই।

সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে ২২ জেলার ১০ থেকে ১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় এর পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়। কিন্তু সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান থাকায় এ মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গা সরু হয়ে এক লেনে পরিণত হয়েছে। ফলে এ সরু স্থান দিয়ে ধীর গতিতে যানবাহন চলাচল করতে থাকায় এ সব স্থানে যানজট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

আরও জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তরের ১৬ জেলা ও দক্ষিণ-পশ্চিমের ৬ জেলায় প্রবেশ করতে এই সড়কটি পার হতে হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান। কিন্তু কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। ফলে এবারেও উত্তরের ইদযাত্রায় ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে এসআই পরিবহনের বাসচালক হাফিজুর রহমান, এসটি পরিবহনের শাহ আলম ও দেশ পরিবহনের ওবায়দুল ইসলাম জানান, এ মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। ঈদের আগে নলকার নতুন সেতু চালু হলে কিছুটা ভোগান্তি কমবে। তবে বঙ্গবন্ধু গোলচত্বর, সয়দাবাদ মোড়, মুলিবাড়ি মোড়, কড্ডার মোড়, পাচিলা, ফুড ভিলেজের সামনের সেতু, ঘুড়কা, দাদপুর ও সাহেবগঞ্জ এলাকায় ভোগান্তি থাকবেই।

এ বিষয়ে নতুন নলকা সেতু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মীর আখতার লিমিটেডের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার শের শাহ ফরিদ বলেন, আগামীকাল ২৫ এপ্রিল নলকা সেতুর উত্তরবঙ্গগামী লেন খুলে দেয়া হলে এখানে আর যানজটের আশঙ্কা থাকবে না।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. দিদারুল আলম বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত নলকা সেতুর উত্তরবঙ্গগামী লেন খুলে দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চান্দাইকোনা সেতুর লেন ইতিমধ্যেই খুলে দেয়া হয়েছে। আর অন্য স্থানগুলোর খানাখন্দ মেরামতের কাজ চলছে। আশা করি, ২৭ এপ্রিলের মধ্যে এ সংস্কার কাজ শেষ হলে এ সমস্যা থাকবে না।

যানজট নিরসনে আশঙ্কাযুক্ত এলাকায় তিন শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানান হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান।

একই কথা জানান সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম (বিপিএম)। তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সিরাজগঞ্জের মহাসড়কে প্রায় তিনশ পুলিশ মোতায়েন থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য পুলিশের পাশাপাশি মোবাইল টিমও থাকবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল কাদের বলেন, ঈদে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত এবং হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া মহাসড়কের চান্দাইকোনা পর্যন্ত যানবাহনের চাপের কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানজটের তীব্রতা কিছুটা বেড়ে যায়। এটা নিরসনে সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ একযোগে কাজ করছে। এ ছাড়া এ মহাসড়কের মুলিবাড়ি হতে সিরাজগঞ্জ শহরে ঢোকার বিকল্প সড়কটি বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবা  হচ্ছে। এটি করা হলে সিরাজগঞ্জ শহর যানজট মুক্ত থাকবে।