সাভারের আশুলিয়ায় ঈদের ছুটি ও বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রবিবার দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী এলাকায় অবস্থিত স্কাইলাইন গ্রুপের শ্রমিকেরা এ বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকেরা জানান, ওই কারখানাটিতে প্রায় ১৪০০ শ্রমিক কাজ করেন। ঈদের বোনাস না দিয়েই আগামী শনিবার থেকে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় শ্রমিকেরা বোনাসের দাবি করলেও কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া না দেয়ায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ হাফ বোনাসের ঘোষণা দেয়। কিন্তু তা মেনে ফুল বোনাসের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্র মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে শ্রমিকেরা।
কারখানার শ্রমিক মিজানুর রহমান বলেন, সকালে সুন্দরভাবে কাজ করছিলাম আমরা। এ সময় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয় ঈদের ছুটি ছয় দিন। এরপরে ১০টার দিকে তারা জানায় সাত দিন ছুটি দেওয়া হবে। এ কথা শুনে শ্রমিকেরা ১০ দিনের ছুটি ও ফুল বোনাসের দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশবাড়ি এলাকার স্কাইলাইন গ্রুপের শ্রমিকেরা হঠাৎ রবিবার দুপুরে কারখানার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কটি প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলে অন্তত ১০ জন সহকর্মী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া শ্রমিকদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ অন্তত আরও ১০ ব্যক্তি আহত হয়।
এ ঘটনায় দুপুর দুইটায় অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়ায় চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে কারখানাটির সামনে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে।
আহত শ্রমিক রেজিয়া বেগম বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ রমজান মাসে আমাদের দিয়ে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করাচ্ছে। তারপরও এবার ঈদের ছুটি দিয়েছে ছয় দিনের। এর আগেও কর্তৃপক্ষ আমাদের বেসিক বেতনের অর্ধেক বোনাস দিয়েছিল, কিন্তু অন্য কোনো কারখানা এমন করে না। তাই শ্রমিকেরা বাধ্য হয়ে বেসিক অনুযায়ী ফুল বোনাস ও ঈদে ১০ দিন ছুটি ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছি।
অপর শ্রমিক সোলেমান বলেন, আমরা ন্যায্য বোনাস ও ছুটির দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমাদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে অন্তত ১০ শ্রমিককে আহত করেছে।
অন্যদিকে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে সংবাদকর্মীদের কারখানার ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান বলেন, ঈদের ছুটি ও বোনাসের দাবিতে রবিবার দুপুরে স্কাইলাইন গার্মেন্টসের শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করেছেন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করে বেশ কিছু পরিবহনে ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে আমাদের ৪/৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এ ছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।