এই দিনে

ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওরফে ‘চান মিয়া’ ছিলেন শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও প্রজাহিতৈষী জমিদার। ১৮৭১ সালের ২৫ এপ্রিল টাঙ্গাইলের করটিয়ায় তার জন্ম। বাবা হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী। মা খোদেজা খাতুন। জমিদার পরিবার বলে গৃহশিক্ষকের কাছেই প্রাথমিক শিক্ষা নেন। পরে নিজের চেষ্টায় আরবি, ফারসি, উর্দু ও ইংরেজি ভাষা শেখেন। তার বাবা কবি মুহম্মদ নঈমউদ্দীন ‘ফতোয়া-ই আলমগীরি’  অনুবাদ করেন। এ কাজে ওয়াজেদ আলীও যুক্ত ছিলেন। তিনি ময়মনসিংহ জেলা কংগ্রেস কমিটি ও জেলা খিলাফত কমিটির সভাপতি ও নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯১৩ সালে তার তত্ত্বাবধানে ও নওয়াব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে করটিয়ায় ‘মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২১ সালে তিনি খিলাফত আন্দোলনে যোগ দেন এবং আইন অমান্য করার অভিযোগে একই বছর ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হন। শিক্ষানুরাগী ওয়াজেদ আলী খান করটিয়ায় ‘হাফেজ মাহমুদ আলী খান হাই স্কুল’ ও ‘রোকেয়া আলিয়া মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়া অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খাঁর সহযোগিতায় দাদা সা’দত আলী খান পন্নীর নামে কলেজও স্থাপন করেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং রোজ সকালে দরিদ্রদের দান করতেন। জমিদারির বার্ষিক আয়ের ২০ শতাংশ তিনি শিক্ষা বিস্তার ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতেন। তার জমিদারিতে প্রজাপীড়ন ছিল না; দুর্ভিক্ষ ও বন্যায় খাজনা মওকুফ করা হতো।  অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই মানুষটি হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে সৌহার্দ্য স্থাপনেও কাজ করে গেছেন। সেই সঙ্গে জমিদারিতে ‘শরিয়ত’ বিভাগ খুলে আলেমদের দিয়ে ইসলাম প্রচার করাতেন। তিনি ১৯৩৬ সালে ২৫ এপ্রিল ৬৭ বছর বয়সে করটিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন।