শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় বাসি খাবার খেয়ে ২০ মাদ্রাসাছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের বড়কালীনগর বড়কাঁচনা এলাকার 'আনন্দ বাজার ইসলামিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। ছাত্ররা হেফজ ও নূরানী বিভাগে পড়ে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অসুস্থ ছাত্ররা জানায়, আনন্দ বাজার ইসলামিয়া কওমিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী।
গতকাল রোববার রাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য মুরগির মাংস ও ডাল রান্না করা হয়। আজ সকালে ২০ জন শিশু ছাত্র গতকালের ওই রান্না করা খাবার খেলে এক ঘণ্টা পর একে একে ২০ জন ছাত্রের বমি ও তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়।
পরে তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। আর মো. ইব্রাহিম (৮), মো. আব্দুর রহমান (১১), মো.আবু বক্কর (১০), মো. সিয়াম (৭), (১০) মাহফুজ (১০) বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গরমে বাসি ও পচা খাবার খাওয়ার ফলে ছাত্ররা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা এখন বিপদমুক্ত।
ওই মাদ্রাসা ছাত্র মো. মাহাদী ইসলাম বলেন, সকালের খাবার খেয়ে আমরা পরীক্ষা দেই। পরে বমি ও তীব্র পেটব্যথা শুরু হয়। অভিভাবক ও শিক্ষকরা আমাদেরকে হাসপাতাল নিয়ে আসে।
অভিভাবক হানিফ চৌকিদার বলেন, মাদ্রাসায় আমার ছেলে পড়ালেখা করে। আমার ধারণা বাসি ও পচা খাবার খাওয়ায় আমার ছেলে অসুস্থ হয়েছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছাত্ররা পরীক্ষা দিচ্ছিল, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরলে তাদেরকে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখন সবাই সুস্থ আছে। কি কারণে অসুস্থ হলো বলতে পারি না।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোসাইরহাট থানার তদন্ত ওসি আবুবকর বলেন, হাসপাতালে ছাত্রদের খোঁজখবর নিয়েছি। এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।