অ্যাগ্রিগেটস ছাড়াই ভালো ব্যবসা লাফার্জের

সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের আয়ের প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ আসে অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা থেকে। তবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা থেকে কোনো আয় করতে পারেনি কোম্পানিটি। অবশ্য এ কারণে কোম্পানিটির টার্নওভারে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পড়েনি। অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা বন্ধ থাকার কারণে চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির আয় কমেছে ১ শতাংশেরও কম।

গতকাল লাফার্জহোলসিম চলতি ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে। অবশ্য আয়ে তেমন প্রভাব না পড়লেও উৎপাদন ও সুদজনিত ব্যয় কিছুটা বাড়ায় কোম্পানির নিট মুনাফা আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে।

যদিও সম্প্রতি লাফার্জহোলসিম তাদের অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুনরায় চালু করেছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানা। আমদানি বিকল্প এই পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

লাফার্জহোলসিমের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময় কোম্পানির সিমেন্ট ও ক্লিংকার বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৬২৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৩১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা থেকে আয় করেছিল ৩৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি প্রথম প্রান্তিকে অ্যাগ্রিগেটস থেকে কোনো আয় আসেনি। তবে এ সময় উৎপাদন ও সুদজনিত ব্যয় কিছুটা বেড়েছে।

চলতি প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় হয়েছে তার মোট রেভিনিউর ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭০ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি প্রথম প্রান্তিকে সুদজনিত ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৯ লাখ টাকা। এতে করে চলতি প্রথম প্রান্তিকে কর-পূর্ববর্তী মুনাফা হয়েছে ১২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আর কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কম। চলতি প্রথম প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিমের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের প্রথম প্রান্তিকে ছিল ৮৯ পয়সা।

ব্যয় সংকোচনে কোম্পানির যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা চলতি প্রথম প্রান্তিকেও বজায় ছিল। প্রশাসনিক ব্যয় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বিক্রয় ও বিপণন ব্যয় কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ।

আর্থিক পারফরম্যান্স সম্পর্কে লাফার্জহোলসিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজেশ সুরানা বলেন, নানাবিধ বাহ্যিক প্রতিবন্ধকতাসহ একটি অভূতপূর্ব প্রান্তিক আমরা সবাই অতিক্রম করেছি। অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা বন্ধ থাকার পরও আমাদের নিট বিক্রি শতকরা মাত্র ১ ভাগ কমেছে। তিনি জানান, প্রথাগত সিমেন্ট বিপণন পদ্ধতির বাইরে এসে লাফার্জহোলসিম বৈচিত্র্য এনেছে। সম্প্রতি আমরা নিজেদের একটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘নির্মাণবান্ধব ডট কম’ চালু করেছি, যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক ঘরে বসেই নির্মাণসামগ্রী ক্রয়সহ নির্মাণ খাতের সব সেবা নিতে পারবেন। ফলে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবেন গ্রাহক।

এ ছাড়া এই প্রান্তিকে জিওসাইকেল প্রকল্পে আমাদের বিনিয়োগের বিপরীতে ফলাফল পেতে শুরু করেছি। এখন আমরা টেকসই উপায়ে বছরে ১০০ কিলোটন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে সক্ষম, যার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে এবং বিকল্প জ¦ালানি ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে বলে জানান লাফার্জের এই প্রধান নির্বাহী।

লাফার্জহোলসিম জানিয়েছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে কোম্পানির অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা পুনরায় চালু হয়েছে, যার ইতিবাচক প্রভাব সামনের প্রান্তিকগুলোতে পড়বে। কেননা কোম্পানির মুনাফায় অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসার উল্লেযোগ্য অবদান রয়েছে। এ ছাড়া ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ডিরেক্ট টু রিটেইল চ্যানেলের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে এই চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে কোম্পানির বিক্রির পরিমাণ বাড়বে।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোম্পানিটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ সিমেন্ট কারখানা ও তিনটি গ্রাইন্ডিং স্টেশন স্থাপনে প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে, যা সিমেন্ট খাতে এ দেশে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগ।