তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পাকিস্তান

পাকিস্তানে চাপা অর্থনৈতিক সংকট অনেকদিন ধরেই চলছিল। এ সংকটের কারণেই দেশটির তুমুল জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে বিরোধীরা। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসে শাহবাজ শরিফ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে ঋণপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সংকট পিছু ছাড়েনি পাকিস্তানের। দেশটিতে বিদ্যুতের ঘাটতিতে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে বর্তমানে বিদ্যুতের মোট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪৬৮ মেগাওয়াটে। ফলে দেশব্যাপী দিনে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।

রাওয়ালপিন্ডির বাসিন্দা রেহানা জাদুন অঘোষিত লোডশেডিংয়ের নিন্দা করেছেন। গুজরানওয়ালার বাসিন্দা জুবায়ের আহমেদ বলেন, রমজান মাসে এ ধরনের লোডশেডিং কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, আমি পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারছি না। ১৫ দিন আগেও বিদ্যুৎ ও ডিজেলের কোনো ঘাটতি ছিল না। পাকিস্তানের জ¦ালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহর এলাকায় দিনে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রামের দিকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। ফলে দেশজুড়ে অন্ধকার নেমে এসেছে। জানা গেছে, দেশটিতে বর্তমানে মোট ১৮ হাজার ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। কিন্তু চাহিদা রয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের। তীব্র জ¦ালানি সংকট ও কারিগরি কারণে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানে জলবিদ্যুৎ থেকে ৩ হাজার ৬৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। যেখানে সরকারি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদন করছে মাত্র ৭৮৬ মেগাওয়াট। তাছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৯ হাজার ৫২৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। অন্যদিকে দেশটির বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ৪৮৭ মেগাওয়াট, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ১০৪ মেগাওয়াট, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট ১৪১ মেগাওয়াট ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ৩ হাজার ৩১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।