প্রায় এক মাস যাবৎ সোনারগাঁ পৌরসভার আবর্জনার ডাস্টবিনগুলো পরিষ্কার না করায় উৎকট দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠেছে পৌরবাসীর। কয়েক বছর আগে সোনারগাঁ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ১২টি স্থানে এ ডাস্টবিনগুলো স্থাপন করা হয়। তবে হঠাৎ করেই গত প্রায় এক মাস ধরে পৌর কর্তৃপক্ষ এ ডাস্টবিনগুলোর ময়লা পরিষ্কার না করায় এলাকার মানুষ আবর্জনার পচা উৎকট দুর্গন্ধে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে এ দুর্গন্ধের কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন বিভিন্ন মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, ডাস্টবিনগুলোতে ময়লা জমা হয়ে উপচে পড়ছে। তাছাড়া ডাস্টবিন ভরে গিয়ে এর আশপাশের জায়গাগুলোও আবর্জনায় ভর্তি হয়ে আছে। বিশ্রী গন্ধের জন্য ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া দায়। মানুষকে নাকে রুমাল চেপে ডাস্টবিন এলাকা অতিক্রম করতে দেখা গেছে।
সোনারগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল কাদির জানান, প্রতিদিন পৌরসভার ডাস্টবিনগুলোতে গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলা হয়। বেশ কিছুদিন ধরে এ ময়লা পৌরসভার পক্ষ থেকে অপসারণ করা হচ্ছে না। তাই এ ময়লা জমে তীব্র দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এ গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে যাওয়া কঠিন। তাছাড়া রোজার মাস চলছে, এ অবস্থায় পচা গন্ধের কারণে মহল্লাবাসীর খুবই কষ্ট হচ্ছে। তিনি জানান, পৌর কর্তৃপক্ষকে এ ময়লা সরানোর কথা বললেও তারা অপারগতা প্রকাশ করেছে।
উদ্ধবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নাহিদ জানান, পৌরসভার ডাস্টবিনগুলো পরিষ্কার না করার কারণে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। দ্রুত এ ময়লা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর সেলিম হোসেন জানান, সোনারগাঁ পৌরসভার আবর্জনা আগে যেখানে ফেলা হতো বর্তমানে সেখানে ফেলা যাচ্ছে না। কারণ ময়লা ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে। এজন্য এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেন ময়লা ফেলতে নিষেধ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে জায়গায় এতদিন ময়লা ফেলা হয়েছে সে জায়গা এক ব্যক্তি নিজের বলে দাবি করছেন। তাই ওই স্থানে আবর্জনা ফেলা এখন বন্ধ আছে।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র সাদেকুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সোনারগাঁ পৌরসভার প্যানেল মেয়র (কাউন্সিলর) নাসিম পাশা এ ব্যাপারে বলেন, ‘একজন নিজের জমি দাবি করায় ওই স্থানে আবর্জনা ফেলা বন্ধ আছে। আগামীকাল (আজ শনিবার) মিটিং করে আবর্জনা সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।’