করোনার পর ঈদের জামাত: এবার প্রস্তুত শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ

নীলফামারী জেলায় সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় ডোমারের ‘শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান’ এ। একসঙ্গে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ নামাজ আদায় করে থাকেন এ ময়দানে।

মঙ্গলবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মো. তছলিম উদ্দিন।

সোমবার (২ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনাকালীন দুবছর পর ময়দানে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি সাজসজ্জাও করা হয়েছে।

জানা যায়, ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের শব্দিগঞ্জ এলাকার এ ময়দানে ভোগডাবুড়ি এবং পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার বড়শশি ইউনিয়নের ১৮টি জামাতসহ ৭৫টি জামাতের মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

ময়দান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৭১২ সালে এ ময়দানে ঈদের নামাজ শুরু হয়। এখন ৫১ বিঘা জমির ওপর ময়দানটি সম্প্রসারণ ঘটেছে। ময়দানের ৭৬টি কাতারে নামাজে অংশগ্রহণ করেন মুসল্লিরা। প্রতি কাতারে অংশ নিতে পারেন প্রায় পাঁচ শ জন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহরিয়ার ইসলাম রিয়াদ বলেন, ঈদগাহ ময়দানে দুবছর নামাজ আদায় করতে পারিনি। ময়দানে নামাজ আদায় করার মজা আলাদা। করোনা কাটিয়ে এবার নামাজ হচ্ছে এ জন্য এলাকার মানুষ খুব খুশি।

শব্দিগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, এখানে নামাজ আদায় করতে দূর থেকে মুসল্লিরা আসেন। বিভিন্ন জেলা থেকেও আসেন। এর চেয়ে বড় ঈদ জামাত নীলফামারী জেলায় আর হয় না।

শব্দিগঞ্জ ঈদগাহ ময়দান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে দুবছর এ ময়দানে নামাজ হয়নি। ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে কিন্তু অজু করার ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অজুখানা এখানে প্রয়োজন। ময়দান সংলগ্ন একটি পুকুর রয়েছে মুসল্লিরা সেখানে গিয়ে অজু করে আসেন। ঈদের দিনে এত মানুষের উপস্থিতি পরিবেশ বদলায় দেয় এখানকার। আমরা চাই কেউ যদি সহায়তা করতে চান তাহলে ময়দানের উন্নয়ন করা সম্ভব।

চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুর রহিম জানান, আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদ্‌যাপনে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ঈদগাহ ময়দানে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে শব্দিগঞ্জ ময়দানটি অনেক বড় সে কারণে সেখানে নজরও অতিরিক্ত রাখা হয়েছে।