বাজার, দোকান, সুপার শপ, অনলাইনে নেই সয়াবিন তেল

রাজধানীর বাজার, পাড়ার দোকান এমনকি সুপার শপে পাওয়া যাচ্ছে না সয়াবিন তেল। অনলাইনেও মিলছে না ঈদ উদযাপনে অপরিহার্য এ পণ্য। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম রাখা হচ্ছে বেশি। 

সরেজমিনে শনি, রবি ও সোমবার রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারে সোমবার সয়াবিন তেলের ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হয় ১ হাজার টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ২২০ টাকা, খোলা পাম তেল লিটারপ্রতি ২১০ টাকা।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নাগরিকরা। ঈদের আগে সয়াবিন তেলের এ সংকটের জন্য ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন তারা। 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরে বিশ্ববাজারে সয়াবিনের দামে অস্থিরতা শুরু হয়। আর্জেন্টিনা রপ্তানি সীমিত করার ঘোষণা এবং ইন্দোনেশিয়া পাম তেল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর দাম বাড়ার নতুন নতুন রেকর্ড হয়। দেশেও দাম না পেয়ে আমদানি কমিয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। আবার ঈদের পরে দাম বাড়বে—এমন চিন্তা থেকে মজুতের প্রবণতাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে সয়াবিন তেলের সংকট সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর ইস্কাটন ঘুরে কোনো দোকানে সয়াবিন তেল পাননি স্থানীয় বাসিন্দা সুলতান আহমেদ। 

তিনি বলেন, ইস্কাটনের কোনো দোকানে সয়াবিন তেল নেই। যে দোকানেই যাই বলে তেল সাপ্লাই বন্ধ। আর কয়েকদিন পর ঈদ। এ সময় যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে মানুষ কী করে চলবে।

ওই এলাকার রফিক স্টোরের মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কোম্পানির কাছে তেল অর্ডার করেছি এক সপ্তাহ আগে। ফোন করলে বলে তেল নেই। অন্যদিকে কারওয়ান বাজার ঘুরে এলাম, সেখানেও তেল নেই। আমরা সাপ্লাই না পেলে কোথা থেকে বিক্রি করব। 

কারওয়ান বাজারের খুচরা মুদি বিক্রেতা মোস্তফা বলেন, শুনেছি ঈদের পর দাম নির্ধারণ হবে। তাই বাজারে কোম্পানি তেল সাপ্লাই দিচ্ছে না। অন্যদিকে ডিলারদের কাছ থেকেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছি।

একই অবস্থা রাজধানীর রাজাবাজার এলাকায়। এখানেও কোনো দোকানে বোতলজাত তেল নেই। যে কয়েকটি দোকানে বিক্রি করছে তারা বোতল ভেঙে বিক্রি করছে।

সয়াবিন তেলকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে গত ১০ মার্চ মাসে তেলের ক্ষেত্রে উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই ঘোষণা কার্যকর করার পর বোতলজাত প্রতি লিটার তেলের দাম লিটারে ৮ টাকা কমিয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ৫ লিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয় ৭৬০ টাকা। আর খোলা তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি লিটার ১৩৬ টাকা।

তবে গত প্রায় এক সপ্তাহে সয়াবিন তেল ২০০ টাকা লিটারে বিক্রি হওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রোতার।