ওয়াক্ফ এস্টেটের নেতৃত্ব নিয়ে বানিয়াচঙ্গে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।
দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে উত্তর পশ্চিম ইউপির চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হায়দারুজ্জামান ধন মিয়াকে প্রকাশ্যে বন্দুক দিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আবু ইউসুফ খান ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সৈদ্যারটুলা সাত মহল্লার সর্দার এনামুল হোসেন খান বাহার। সম্প্রতি বানিয়াচঙ্গ আওয়ামী লীগের সদস্য নজরুল ইসলাম অ্যাডভোকেট মোতাওয়াল্লীর দায়িত্ব নিলে ইউপি চেয়ারম্যান হায়দরুজ্জামান খান ধন মিয়া ও তার অনুসারীরা তা মেনে নিতে পারেননি।
‘এ নিয়ে কিছুদিন যাবৎ মতবিরোধ চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সৈয়দারটুলা পুকুর পাড়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষর ওপর হামলা চালায়।’
আরও জানা যায়, এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ধন মিয়াকে একটি বন্দুক নিয়ে গুলি করতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকা রণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী আদর্শ বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়। খবর পেয়ে বানিয়াচঙ্গ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৪ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস ও শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বানিয়াচঙ্গ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে জানান, সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের পাঁচ থেকে ছয়জন সদস্যসহ প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।
ইউপি চেয়ারম্যানের বন্দুকের গুলি ছোড়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে, কার গুলিতে কে আহত হয়েছেন এ মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টেটাবিদ্ধ চেয়ারম্যানের ভাই বাচ্চু মিয়া ও গুলিতে আহত বানিয়াচঙ্গ উপজেলা পরিষদে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল বাহার খানকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আহত অন্যদের হবিগঞ্জ ও বানিয়াচঙ্গ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকেই হাসপাতাল ও গ্রামের বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।