করোনায় বিশ্বে দেড় কোটি মৃত্যু

করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত বিশ্ব। এখন পর্যন্ত দেশগুলোর দেওয়া তথ্যে, বিশ্বে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে ৬০ লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রথমবারের মতো করোনায় মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করেছে। আর এ তথ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ডব্লিউএইচও বলেছে, করোনা মহামারীতে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা দেশগুলো প্রকাশ করেনি। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৯৪ লাখ মানুষের মৃত্যুর তথ্য আসেনি। সংস্থাটির তথ্য মতে, করোনায় গত দুই বছরে (১ জানুয়ারি ২০২০ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১) ১ কোটি ৩৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মহামারীতে যে পরিমাণ প্রাণহানি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল, এ সংখ্যা তার চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অনেক দেশ করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে তুলে ধরেছে। ভারতে করোনায় ৪৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী যা ১০ গুণ বেশি। আর বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ মানুষই দেশটিতে মারা গেছে।

ভারতে করোনায় মৃত্যু নিয়ে সরকার যে পরিসংখ্যান জানিয়ে আসছে, এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে দেশটির বিশেষজ্ঞদের। তাদের ধারণা, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি। গত বছর করোনার ডেল্টা ধরনের তাণ্ডবে ভারতে বিপর্যয় দেখা দেয়। দাফনেরও স্থান না হওয়ায় নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, তাকে অতিরিক্ত মৃত্যু গণনা বলা হচ্ছে। মহামারীর আগে একই এলাকায় মৃত্যুহারের ওপর ভিত্তি করে প্রত্যাশিত তুলনায় কত বেশি লোক মারা যায় সে সংখ্যা। করোনার প্রত্যক্ষ প্রভাবে যারা মারা গেছে, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। করোনা আক্রান্তের পর চিকিৎসা না পাওয়ায় যারা মারা গেছে, তাদেরও এ তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

এ গণনা সরাসরি কভিডের কারণেও নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারেনি অনেক রোগী। এটি কিছু অঞ্চলে খারাপ রেকর্ড ও সংকটের শুরুতে বিরল পরীক্ষার জন্যও দায়ী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অতিরিক্ত ৯৫ লাখ মৃত্যুর মধ্যে ৫৪ লাখের বেশি মৃত্যু হয়েছে সরাসরি ভাইরাসের প্রভাবে।

বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যুর সংখ্যার বিষয়টি প্রকাশ করতে গিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিভাগের ডা. সামিরা আসমা বলেন, ‘এটা একটি ট্র্যাজেডি। এ সংখ্যা হতবাক হওয়ার মতো। যারা মারা গেছে, তাদের স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। আমরা মৃত্যুর পরিসংখ্যান সঠিকভাবে বের করতে না পারলে পরে আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ হারাব।’

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের পাশাপাশি রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং পেরুর মতো দেশগুলোতে প্রচুর মৃত্যু দেখে বিশ্ব। এই দেশগুলোও মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে তুলে ধরে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে আমাদের আরও ভালো তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা প্রয়োজন। মানুষ জন্মগ্রহণ করবে ও মারা যাবে। কিন্তু মৃত্যুর কোনো রেকর্ড থাকবে না, এটি লজ্জাজনক। যথাসময়ে তথ্য পাওয়ার জন্য তথ্য নিবন্ধন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।