উখিয়ায় ক্যাম্পের বাইরে থেকে ২০৩ রোহিঙ্গা আটক

কক্সবাজারের উখিয়ায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন চেকপোস্ট থেকে ক্যাম্প ছেড়ে বাইরে আসা এসব রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়। ৮ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোহিঙ্গা সদস্যদের ক্যাম্প এলাকার বাইরে গমন রোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলেও ঈদ উপলক্ষে তা জোরদার করা হয় যা চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, বুধবার ঈদ উপলক্ষে উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে পড়া শত শত রোহিঙ্গা কক্সবাজার সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের সাথে মিশে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ মাত্র কয়েক ঘণ্টা সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সমুদ্র সৈকতসহ শহর থেকে ৪৪৩ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে। এর মধ্যে দুই শতাধিক আটক হয়েছে কেবল সমুদ্র সৈকত থেকেই। এর মধ্যে সাগরে গোসল করতে গিয়ে এক রোহিঙ্গার মৃত্যুও ঘটেছে।

 

বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্নস্থান থেকে অন্তত লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজার সৈকতে। সাগর পাড়ের হোটেল-মোটেলগুলোর কোনো কক্ষই এখন খালি নেই। এমন পরিস্থিতিতে লাখো পর্যটকের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের একাকার হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের সরকার উখিয়া ও টেকনাফে নির্ধারিত স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের খাওয়া-দাওয়াসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দিয়ে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের শিবিরের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশ সুপার জানান, শিবির ছেড়ে শত শত রোহিঙ্গা কক্সবাজারের নানা স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে।

তিনি আরও জানান, আটক রোহিঙ্গাদের আপাতত শিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের ভাসানচরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।