ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রমজানপুরে পাঁচ দিন ব্যাপী বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
ড. আবদুস সোবহান গোলাপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাঠে ঈদের দিন থেকে শুরু হয়েছে।
ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপির পৃষ্ঠপোষকতায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ মিলন মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের দোকান সাজিয়ে বসেছেন। এই মেলায় জেলাসহ সহ আশপাশের হাজারো মানুষ দেখতে ও কিনতে আসছেন। মেলায় ঘুরতে এসে যেমন খুশি ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা; তেমনি খুশি বিক্রেতারাও। তা ছাড়া দুর-দূরান্তর কাঠের আসবাবপত্র নিয়ে মেলায় আসায় তাদের এক মাস পর্যন্ত থাকার ব্যবস্থা করেছে মেলা আয়োজকেরা।
দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলায় গত দুই বছর করোনার জন্য করা হয়নি। একসময় ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে নায়েব হাজী লতিফ হোসেন ব্যাপারী বাড়ি ঈদগাহের পাশে মিষ্টির দোকান বসতো। ঈদের নামাজ শেষে মানুষ সেখান থেকে আত্মীয়স্বজনদের জন্য মিষ্টি কিনে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি যেত। ধীরে ধীরে চুড়ি ফিতা সহ অন্যান্য দোকান বসতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেটা একটা মেলা এবং মিলন মেলায় রূপ নেয়।
মেলায় নাগরদোলা, বায়োস্কোপ, মাটির তৈরি খেলনা, চুড়ি-ফিতা ও কসমেটিকস এবং বিভিন্ন রকমের খাবারের দোকান। ঈদের নামাজ শেষে এ মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের সাংসদ ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
দর্শনার্থী ডাক্তার মনি জানান, এমনিতেই ঘুরতে তেমন সুযোগ পাই না। তবে ঈদ উপলক্ষে সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে এসে খুবই ভালো লাগছে। এই সুন্দর ব্যবস্থাপনার জন্য ধন্যবাদ জানাই।
মেলায় কিনতে আসা প্রবাসী রহিম জানান, অনেক দিন কোনো মেলা হয় না, তাই মেলায় আসা হয় না, তা ছাড়া মেলা উপলক্ষে মালামালের দামও একটু কম থাকে তাই ঘরের আসবাবপত্র কিনলাম।
মেলায় রমজান নামে দোকানদার বলেন, অনেক মেলায় গেলে বিক্রির চেয়ে চাঁদা দিতে দিতে মুনাফার টাকা শেষ হয়ে যায় কিন্তু এখানে দোকান বসানোর ভাড়াটা পর্যন্ত ফ্রি।
মাদারীপুরের রমজানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিএম মিল্টন ইব্রাহিম জানান, প্রশাসনের পাশাপাশি পক্ষ থেকে কমিটি করে নেয়া হচ্ছে সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা। তা ছাড়া আমরা কারো কাছ থেকে কোনো ভাড়া বা চাঁদা তুলছি না। যারা দুর থেকে আসছে তাদের জন্য সময় আরও বাড়ানো হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশ বিদেশ থেকে নিজ বাড়িতে আসে সবাই আর এই ঈদকে কেন্দ্র করেই সেই দুশত বছর পূর্বের থেকে এই মেলার আয়োজন গত দুই বছর ছাড়া প্রতিবছর এই মেলাকে কেন্দ্র করে একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। আমি সার্বিক সহযোগিতাসহ প্রতিদিনই মেলায় এসে সবার খোঁজ খবর নিচ্ছি।