ঈদের ছুটি শেষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। গতদিনের চেয়ে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে দ্বিগুণ। এতে ঘাট পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি।
সরেজমিনে শনিবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাট ও এর আশপাশের সড়ক ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলাগামী মানুষেরা দূরপাল্লার বাস, মাহেন্দ্র, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে ঘাটে এসে ফেরি ও লঞ্চে নদী পার হচ্ছেন। ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৮ কিলোমিটার যাত্রীবাহী বাসের সিরিয়াল রয়েছে, এ সময় কিছু পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাককেও সিরিয়ালে থাকতে দেখা যায়। তবে এসব যানবাহনগুলোকে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, যাত্রী পারাপার দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কমাতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২৩টি লঞ্চ ও ২১টি ফেরি চলাচল করছে।
সোহাগ পরিবহনের এক যাত্রী জানান, গতকাল দুপুরে খুলনা থেকে রওনা দিয়েছেন। রাতে ঘাটে এসে বাসের দীর্ঘ সারিতে আটকা পড়ে ১০ ঘণ্টা হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ফেরি দেখা পাননি।
‘প্রচণ্ড গরমে একেবারে বাজে পরিস্থিতিতে পড়েছি’ বলেন তিনি।
একে ট্রাভেল পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, পরিবারের সবাই মিলে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছি, কিন্তু ভোর রাত থেকেই জ্যামে আটকা পড়ে আছি, আজ কি ফেরি পাবো কিনা এটা এখনো জানা নাই, তা ছাড়া এখানে খাবার হোটেল, ভালো টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় বাচ্চা-নারীদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপারে ছোট-বড় মিলিয়ে ২১টি ফেরি চলাচল করছে। গত রাত থেকে যানবাহনের চাপ বাড়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চাপ সামলাতে আমরা কাজ করছি তা ছাড়া আমাদের ফেরি চলাচল এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক রয়েছে।