ঈদের ছুটি শেষে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দিয়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গতকাল বিকেল থেকে শুরু হওয়া যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি শনিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও একটুও কমেনি।
বেশির ভাগ যাত্রী অতিষ্ঠ হয়ে বাস থেকে নেমে দৌলতদিয়া ঘাটে পায়ে হেঁটে যেতে দেখে গেছে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা আর গরমে অতিষ্ঠ যাত্রীরা পায়ে হেঁটেই গন্তব্য যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ও এর আশপাশের সড়কে দেখা যায়, কর্মস্থলে ফেরা রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলাগামী মানুষেরা বাস থেকে নেমে মাহিন্দ্র, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাযোগে ঘাটে এসে ফেরি ও লঞ্চে নদী পার হচ্ছেন।
এ সময় আরো দেখা যায়, বেশির ভাগ যাত্রীরা বাসের মধ্যে বসে না থেকে পায়ে হেঁটে ঘাটের জন্য রওনা হয়েছেন।
এদিকে ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ৮ কিলোমিটারেও বেশি সড়কে যাত্রীবাহী বাস সিরিয়াল রয়েছে, তবে সারা দিন পর্যবেক্ষণ কর দেখা যায় সকালের তুলনায় বিকেলের পরে ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। কারণ তাদের বেশির ভাগই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে চেষ্টা করছেন। সন্ধ্যার পরো দৌলতদিয়া ঘাটের যেসব অপেক্ষায় থাকা যানবাহন গুলো রয়েছে সেই সব বাস আজ রাতে পার হতে পারবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। তবে ক্ষেত্র হিসেবে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাসগুলোকে।
বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, যাত্রী পারাপার দুর্ভোগ ও ভোগান্তি কমাতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ২৩টি লঞ্চ ও ২১ ফেরি চলাচল করছে। তবে এর কোনো প্রভাব ঘাট ও এর আশপাশে লক্ষ করা যায়নি। বরং বেলা যতই গড়াচ্ছে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ এবং বাসের সারি দীর্ঘ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা থেকে আসা এক যাত্রী বলেন, আমি সাতক্ষীরা পরিবহনে দুপুর ২টার দিকে ঘাট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে আটকা পড়ি, এখন সন্ধ্যা ৬টা বাজে এখনো প্রায় ৫ কিলো পথ বাকি রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে এত ফেরি থাকতেও এত যানজট ভাবাই যায় না। দুই কিলোমিটার পথ পারি দিতে ৪ ঘণ্টা লাগল এখনো ৫ কিলোমিটার পথ বাকি আছে খোদাই জানে আর কত ঘণ্টা লাগে?
সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে পায়ে হেঁটে যাওয়া এক যাত্রী আব্দুল আওয়াল বলেন, এখন এই দুই পা ভরসা, কাল সকালে যে করে হোক অফিস ধরতে হবে, আমাদের বাস এখান থেকে (গোয়ালন্দ) ৬/৭ কিলোমিটার দূরে, ভাবলাম বাসে বসে না থেকে হেঁটেই চলে যাই।
তিনি আরো বলেন, ইজিবাইকে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাড়া বেশি তা ছাড়া এই এলাকার গ্রামের পথ চিনি না তাই হেঁটেই যাচ্ছি।
সোহাগ পরিবহনের এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, গতকাল দুপুরে খুলনা থেকে রওনা দিয়ে রাতে ঘাটে এসে বাসের দীর্ঘ সারিতে আটকা পরে ১০ ঘণ্টা হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ফেরির দেখা পাননি।
একে ট্রাভেল পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, পরিবারের সবাই মিলে ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছি, কিন্তু ভোর রাত থেকেই জ্যামে আটকা পড়ে আছি, আজ কি ফেরি পাবো কিনা এটা এখনো জানা নাই, তা ছাড়া এখানে খাবার হোটেল, ভালো টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় বাচ্চা মহিলাদের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন জানান, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপারে ছোট-বড় মিলিয়ে ২১টি ফেরি চলাচল করছে। গত রাত থেকে যানবাহনের চাপ বাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চাপ সামলাতে আমরা কাজ করছি তা ছাড়া আমাদের ফেরি চলাচল এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক রয়েছে।