সড়কে নিহত কাওসার-সাদিয়া: প্রবাসফেরত বাবার একযুগের স্বপ্ন শেষ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকায় মহিষভাঙ্গা নামক স্থানে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে নাটোর সদর উপজেলার পাইকোরদৌল এলাকার শাজাহান আলীর ছেলে কাওছার আলী (১৮) এবং মেয়ে সাদিয়া পারভীন (১৪) ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত কাওসার আহমেদ শহরতলীর দিয়ারভিটা বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং তার ছোট বোন সাদিয়া বাড়ির পাশের পাইকেরদৌল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।

প্রতি বছরের মতো এবারো ঈদ উপলক্ষে মা হেলেনা বেগম আর মামা আব্দুল জলিলের সঙ্গে সিয়াম পরিবহন বাসে মামার বাড়ি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা ন্যাশনাল পরিবহনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসের বোনাটে বসা মা আর মামা বেঁচে গেলেও কাওসার আহমেদ ও সাদিয়া খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া মামা আব্দুল জলিল বলেন, ঈদের পরের দিন বোন আর ভাগনে ভাগনিকে নিতে নাটোরে আসি, শনিবার তাদের নিয়ে টাঙ্গাইলে যাওয়ার পথে আমি, আমার বোন হেলেনা ও ভাগনে-ভাগনি বাসের বোনাটে বসেছিলাম। বনপাড়া থেকে একটু দূর এগোলেই উল্টোদিক থেকে আসা একটি বাস আমাদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এর পর আমি কিছু বলতে পারব না, পরে শুনি আমার ভাগনে-ভাগনিকে আল্লাহ নিয়ে গেছে। 

ভাগনে ভাগনির আর মামা বাড়ি যাওয়া হলো না বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, মা হেলেনা বেগম পাগলের মতো বিলাপ করছেন। আমার ছেলের আজ বিয়ে, সবাই তাড়াতাড়ি আমার ছেলেকে সাজাও। আমার সাদিয়া গোশত খেতে ভালোবাসে। তোমরা গোশত রান্না কর আমি ওদের মুখে তুলে খাওয়াব। বাবা তুই আয় ভাত খেয়ে যা এসব বলে বলে বারবার অচেতন হয়ে পড়ছেন। একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে বাবা শাজাহান নির্বাক হয়ে শুধু শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে।

কাওসার ও সাদিয়ার বড় আব্বা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, আমার ভাই তার দুই ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্য ১০ থেকে ১২ বছর মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটিয়ে বছর খানেক আগে দেশে আসেন। আজ আমার ভাইয়ের সব স্বপ্ন ভেঙে গেল।

দুই ভাইবোনের মৃত্যুর খবর শুনে হাজার হাজার এলাকাবাসী ও তাদের সহপাঠীরা এক নজর দেখার জন্য তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়।

শনিবার বিকেল তিনটার দিকে নিহত দুই ভাইবোনের লাশ গ্রামে নিয়ে আসলে পুরো গ্রাম জুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। বিকেলে আসর নামাজের পর তাদের জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।