ইউক্রেনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার কারণে পশ্চিমা দুনিয়ার নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছে রাশিয়া। রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে নেওয়া এসব পদক্ষেপের পাশাপাশি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপর্যস্ত করতে পুতিন-সংশ্লিষ্টদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আনা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অ্যালিনা কাবায়েভার নামও যুক্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যালিনা কাবায়েভা একজন রুশ রাজনীতিবিদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সাবেক অলিম্পিক জিমন্যাস্ট এবং যদি গুজব সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং তার কয়েকজন সন্তানের মা। জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডে তার বাসভবন থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবিতে চলতি বছরের মার্চে একটি অনলাইন পিটিশন স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিবিসির এক প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছে, ইইউ কর্র্তৃক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ব্যক্তিদের সর্বশেষ তালিকায় রয়েছেন কাবায়েভা।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিন থেকে প্রোপাগান্ডা প্রচার এবং প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত’ থাকার কারণে তাকে টার্গেট করা হতে পারে। তবে খসড়া নথিতে তাকে পুতিনের ‘বান্ধবী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি এবং এখন অবধি ওই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেনি ইইউ।
২০০৮ সালে মস্কোভস্কি করেসপনডেন্ট সংবাদপত্রের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট পুতিন তার তৎকালীন স্ত্রী লিউডমিলাকে তালাক দিয়ে কাবায়েভাকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন। যদিও সে সময় দুজনই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর কিছুদিন পরেই পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয় কর্র্তৃপক্ষ। সেই গুজবের পাঁচ বছর পর পুতিন এবং লিউডমিলা বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। রুশ প্রেসিডেন্ট যখন তাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছিলেন, তখন কাবায়েভা নিজের সফল ক্রীড়া জীবন থেকে সবে রুশ রাজনীতিতে পা রাখছেন। জিমন্যাস্টিক জগতে নিজেকে সেরা হিসেবে দাবি করেছেন কাবায়েভা। দলে আধিপত্য বিস্তারকারী শীর্ষস্থানীয় পারফরমার ছিলেন তিনি। ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি অলিম্পিকেই স্বর্ণপদক জিতেছে রাশিয়া।
১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন অ্যালিনা কাবায়েভা। চার বছর বয়স থেকেই শুরু করেন রিদমিক জিমন্যাস্টিকস। তার প্রশিক্ষক ইরিনা ভিনার তার সম্পর্কে বলেন, ‘আমি যখন তাকে প্রথম দেখি, নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। মেয়েটির মধ্যে রিদমিক জিমন্যাস্টিকসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি গুণের বিরল সমন্বয় দেখেছিলাম আমি। প্রথমটি নমনীয়তা এবং দ্বিতীয়টি তৎপরতা।’