টানা ১৮ দিন ধরে দেশে করোনায় কেউ মারা যাননি। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল একজনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে মূলত ১৫ মার্চ থেকে মৃত্যুশূন্য দিন শুরু হয়। ১৫ মার্চ থেকে টানা তিন দিন মৃত্যুশূন্য থাকে। পরের দিন ১৮ মার্চ দুজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই বেশিরভাগ দিনই মৃত্যুশূন্য ছিল দেশ। সে হিসেবে গত ৫৫ দিনের মধ্যে ৪৫ দিনই কোনো মৃত্যুর খবর দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন পর্র্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১২৭ জনের। তাদের মধ্যে পুরুষ মারা গেছেন ১৮ হাজার ৫৯৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬৪ শতাংশ এবং নারী ১০ হাজার ৫৩৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৬ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি মারা গেছেন ৬১-৭০ বছর বয়সীরা, ৯ হাজার ৫ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ। এরপর ৫১-৬০ বছর বয়সী ৬ হাজার ৭৮৫ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৩ শতাংশ ও ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ৫ হাজার ১০৪ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। ৪১-৫০ বছর বয়সীরা মারা গেছেন ৩ হাজার ৪২৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ।
বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঢাকায় ১২ হাজার ৭৯৭ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৮৬৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ২০ শতাংশ এবং খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৭১৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৩ শতাংশ। সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে ৮৮০ জনের, যা মোট মৃত্যুর ৩ শতাংশ।
মোট মৃত্যুর ৮৫ শতাংশ মারা গেছে সরকারি হাসপাতালে, ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতালে ও বাসায় ৩ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে ৩৫ জনকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় কেউ মারা যায়নি। এ সময় ৫ হাজার ৫৯৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত হার ছিল শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ। আগের দিন এই হার শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ ছিল।
নতুন রোগীদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকার, একজন টাঙ্গাইলের, একজন রংপুরের, একজন কুড়িগ্রামের, একজন কুষ্টিয়ার এবং একজন সিলেট জেলার বাসিন্দা। সার্বিক শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। আর মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।