ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপর গড়ে উঠছে একের পর এক বাজার। বৈধ অবৈধ এসব বাজারে প্রতিনিয়তই মানুষের ভিড় বাড়ছে। বাজারকে কেন্দ্র করে ওইসব স্থানে গড়ে উঠেছে রিকশা, মাহিন্দ্র ও অটো স্ট্যান্ড। এতে করে মহাসড়কে দূরপাল্লার যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনার মতো ঘটনা।
মহাসড়কের আশপাশের এসব বাজার উচ্ছেদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি না থাকার কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৭১ কিলোমিটারের মহাসড়ক ঘেঁষে প্রায় ২৪টি বাজার গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বরিশাল থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার সড়কে ১৮টি ও বরিশালের জিরো পয়েন্ট থেকে বাকেরগঞ্জ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের সড়কে ৬টি বাজার রয়েছে। মহাসড়কটির বরিশাল থেকে ভুরঘাটা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বরিশাল অংশে পড়েছে।
সূত্রে আরও জানা যায়, মহাসড়কটির বরিশাল অংশে গড়ে ওঠা বাজারের মধ্যে চৌমাথা, কাশিপুর, কাশিপুরের রেন্ট্রিতলা, গড়িয়ারপাড়, ছয়মাইল, সাতমাইল, রহমতপুর, জয়শ্রী, লাকুদিয়া, ইচলাদি, শানেওয়ার, বামরাইল, বাটাজোর, মাহিলারা, টরকি, বার্থি, গৌরনদী ও ভুরঘাটা অন্যতম। এসব বাজারের কোনোটি সড়কের পাশে ও ওপরে ভাসমান হিসেবে বসে। প্রতিটি বাজারেই রয়েছে বাস, রিকশা ও অটো টেম্পোর স্ট্যান্ড।
এর মধ্যে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকি বন্দরের লাখেরা-কসবা সেতু থেকে নীলখোল সেতু পর্যন্ত প্রায় পৌনে এক কিলোমিটারে কয়েকশ স্থাপনা। এসব স্থাপনার কোনো কোনোটি মহাসড়ক থেকে চার-পাঁচ ফুট দূরত্বে, কোনো কোনোটি তারও কম দূরত্বে। মূল বাজারে ঢোকার মুখে বাসস্ট্যান্ডে অসংখ্য রিকশা, ভ্যান, ব্যাটারিচালিত যান দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছে। এ কারণে দূরপাল্লার বাসগুলোকে সেখানে আটকা পড়তে হচ্ছে।
এদিকে বরিশালের জিরো পয়েন্ট থেকে বাকেরগঞ্জ পর্যন্ত ১৮ কিলোমিটারের সড়কে প্রায় ৬টি স্থায়ী ও ৩ থেকে ৫টি অস্থায়ী (সাপ্তাহিক) বাজার বসে। এরমধ্যে শহরের ব্যস্ততম সড়ক নগরের রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বুড়ির মাজার, বোয়ালিয়া বাজার, বাকেরগঞ্জ অন্যতম।
বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া বাজার এলাকার তাইজুল বলেন, বাকেরগঞ্জে রাস্তার পাশে সপ্তাহে দুবার বাজার বসে। এখানে বিক্রেতারা গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু-ছাগল এনে রাস্তার পাশেই বাজার বসান। আর এখান থেকে একটি চক্র মোটা অংকের টাকা চাঁদা নিচ্ছে।
বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের বাসচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, মহাসড়কে বাস চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রাকচালক সুমন মিয়া বলেন, আমি প্রায় দিনই উত্তরাঞ্চল থেকে মালামাল নিয়ে বরিশালে আসি। বরিশালের রাস্তার পাশে বাজারের শেষ নেই। সাপ্তাহিক বাজার থেকে শুরু করে ভ্রাম্যমাণ অনেক বাজার দেখি আমরা। এসব বাজার সরিয়ে নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, বাজার উচ্ছেদের জন্য বরিশালের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, এই কাজের দায়িত্ব সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তারা আমাদের বাজারের তালিকা দিলে আমরা সহযোগিতা করব।