বিনা টিকেটে ট্রেন ভ্রমণকারী রেলমন্ত্রীর নুরুল ইসলাম সুজনের আত্মীয়দের জরিমানা করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ও সমালোচনার মুখে সে আদেশ প্রত্যাহারের পর মঙ্গলবার দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন টিটিই শফিকুল ইসলাম।
চার দিন পর কাজ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিনা টিকেটে ভ্রমণকারী যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেছেন ৯১০০ টাকা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, কর্মস্থলে ফেরার পর মঙ্গলবার খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কাজে ফেরেন তিনি। সোমবার পুনর্বহালের অফিস আদেশ পেয়ে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনের রেলওয়ে ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক কার্যালয়ে স্বপদে যোগদানের আবেদনপত্র জমা দেন তিনি। আবেদন গ্রহণের পর মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন তিনি।
ট্রেনটি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গন্তব্যে পৌঁছায়। টিটি হিসেবে পুনরায় কাজের দায়িত্ব পাওয়ার পর বিনা টিকেটে ভ্রমণকারীদের নিকট থেকে ৯ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন শফিকুল।
সন্ধ্যায় চিলাহাটি স্টেশনে রাজস্ব খাতে এ টাকা জমাও দিয়েছেন তিনি।
শফিকুল বলেন, ট্রেনে আজ চারজন টিটি কাজ করছি। এর মধ্যে আমি ৯১০০ টাকা ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করেছি।
টিকিটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করে রেলের সরকারের রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পেরে খুশি বলেও জানান আলোচিত এই টিকিট চেকার।
শফিকুল আরো বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে আবার কাজে ফিরতে পেয়েছি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে আমার কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, বিনা টিকেটে ভ্রমণকারীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক কঠোর। অযথা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে ভ্রমণকারীদের টিকেট ছাড়া ট্রেনে না ওঠাই সমীচীন।
গত ৫ মে খুলনা থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে বিনা টিকিটে এসি কেবিনে ভ্রমণকারী রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়া তিন যাত্রীকে জরিমানার পর বরখাস্ত হন টিটিই শফিকুল ইসলাম। এ নিয়ে গণামাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয় রেল মন্ত্রণালয়।