ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা ফেরত পেল শিক্ষার্থীরা

শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রাপ্য টাকা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন গাংনী পাইলট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন। করোনা মহামারীর কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা বোর্ড ফেরত দেওয়া সত্ত্বেও তা না পাওয়ার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে গাংনী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক বোর্ড থেকে ফেরত পাঠানো ১ লাখ ২২ হাজার টাকা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে শুরু করেছেন। ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম বিজয় ও মুকুল হোসেন জানায়, ২০২১ সালে গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২২১ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করার পর করোনা মহামারীর কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা হয়। এ কারণে শিক্ষা বোর্ড পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার ফরম পূরণের প্রায় অর্ধেক টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল। সেই অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন বলে তাদের অভিযোগ। শিক্ষার্থী মুস্তাক আহমেদ ও সুমাইয়া খাতুন জানায়, গাংনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করছে তারা। সবসময় তাদের পক্ষে টাকা চাইতে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। এরপরও বিভিন্ন সময়ে টাকা চাইতে গেলে প্রধান শিক্ষকের অশোভন আচরণের মুখে পড়তে হয়েছে। তাই শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছে। গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর হাবিবুল বাশার বলেন, ‘সরকারি বিধি মোতাবেক টাকা ফেরত দিতে প্রধান শিক্ষক বাধ্য। এতদিন তিনি কেন টাকা ফেরত দেননি, আজ (গতকাল) কেন সেই টাকা ফেরত দিলেন দুটি বিষয়ই তদন্ত করে দেখা হবে। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘অশোভন আচরণের অভিযোগ ঠিক নয়। শিক্ষার্থীরা কখনোই আমার কাছে টাকা নিতে আসেনি। তারা টাকা নিতে আসলে আমি টাকা ফেরত দিয়ে দিতাম। অথচ মঙ্গলবার (গতকাল) হঠাৎ করে তারা টাকা ফেরতের দাবিতে স্কুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে। এটা শিক্ষার্থীরা বোকামি করেছে। টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। যারা টাকা ফেরত পায়নি তারা স্কুলে এসে যোগাযোগ করলে ফেরত পাবে।’ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা হওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সব স্কুলে ফরম পূরণের অতিরিক্ত টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টাকা স্কুল কর্তৃপক্ষ ফেরত না দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাংনীতে শিক্ষার্থীরা কেন এতদিন পর টাকা পেল, এজন্য দায়ী কে, তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।