হাজী সেলিমের খালাস বাতিল চেয়ে আপিল

সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমকে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বাতিল ও সাজা চেয়ে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয় বলে জানান দুদকের আইনজীবীরা।

২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকার বিচারিক আদালত হাজী সেলিমকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ১০ বছর ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তিন বছরের কারাদন্ড দেয়। পরে হাজী সেলিমের আপিল আংশিক গ্রহণ ও আংশিক খারিজ করে গত বছরের ৯ মার্চ হাইকোর্ট সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় তিন বছরের সাজা থেকে তাকে খালাস দেয়। তবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১০ বছরের সাজা বহাল রাখা হয়। এ ছাড়া বিচারিক আদালতের রায়ে তাকে দেওয়া ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদন্ডের রায় বহাল রাখে হাইকার্ট।

দুদকের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেখানে তার (হাজী সেলিম) জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে সেখানে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও প্রমাণ হয়েছে। সাজা দিয়ে বিচারিক আদালতের যুক্তি হাইকোর্ট যেভাবে খন্ডন করে খালাস দিয়েছে সেটি আইনসিদ্ধ হয়নি। এই যুক্তিতে খালাসের রায় বাতিল ও তিন বছরের সাজা চেয়ে আপিল করা হয়েছে। কার্যতালিকায় আসলে শুনানি হবে।’

দুদকের এ মামলায় হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হয়। এতে হাজী সেলিমকে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে পৌঁছায়।

আত্মসমর্পণের আলোচনার মধ্যে সম্প্রতি হাজী সেলিম থাইল্যান্ড যান এবং ফিরেও আসেন। এ নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। ওই সময় তার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জামিনে থাকা হাজী সেলিম আগামী ১৬ থেকে ২৫ মে’র মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

৬৭ কোটি ৪৩ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানায় ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা করে তখনকার দুর্নীতি দমন ব্যুরো (বর্তমানে দুদক)।