দেশ ছেড়ে পালাবেন না শ্রীলঙ্কার পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কায় খবরটি বেশ জোরালো ভাবেই ছড়িয়েছিল। পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাক্ষের সমালোচকরা তো বটেই সমর্থকরাও বলছিলেন দেশের সীমানা পেরিয়ে সপরিবারে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। তবে ভারত ‘খবর’টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়। এবং মাহিন্দার ছেলে নামালও জানিয়েছেন তার বাবা ও পরিবার দেশ ছেড়ে পালাবে না।

মঙ্গলবার রাতে এ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কলম্বোর ভারতীয় দূতাবাস জানায়, রাজাপাক্ষের ভারতে যাওয়া বা আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে নেট মাধ্যমে যা যা দাবি করা হয়েছে, তার পুরোটাই রটনা। এ ব্যাপারে একটি টুইটে স্পষ্ট করে ভারতীয় হাই কমিশনার জানিয়েছে, ‘এটি একটি ভুয়া খবর এবং সর্বৈব মিথ্যা। শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কোনও রকম আশ্রয় দেয়নি ভারত’।

এরপর তার ছেলে নামাল রাজাপাক্ষেও জানিয়েছেন, তারা বাবা ও শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে দেশ থেকে পালিয়ে যাবেন না।

নামাল গতকালই বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, রাজাপক্ষে পরিবারের শ্রীলঙ্কা ত্যাগের কোনো পরিকল্পনা নেই।

নামাল একজন সংসদ সদস্য। তাকে রাজাপক্ষে পরিবারের ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

নামাল বলেন, ‘অনেক গুজব আছে যে আমরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছি। আমরা দেশ ছাড়ব না’। রাজাপক্ষে পরিবারের বিরুদ্ধে জাতীয় ক্ষোভকে একটি বাজে সময় হিসেবে বর্ণনা করেন নামাল।

নামাল জানান, তার বাবা মাহিন্দা এমপি হিসেবে পদত্যাগ করবেন না। তিনি তার উত্তরসূরি নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে চান।

নামাল আরও বলেন, তার বাবা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তিনি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শ্রীলঙ্কায় সরকার পতনের দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলছে। এ আন্দোলন গত সোমবার সহিংস রূপ নেয়। ক্ষমতাসীন দল ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভের মুখে ৯ মে মাহিন্দা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

তারপর থেকেই বিরোধীরা তার গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। পদত্যাগ করার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালেই তিনি তার দফতর এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘টেম্পল ট্রি’ ছেড়ে চলে যান। তার পরই তার সপরিবার দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

৭৬ বছর বয়স মাহিন্দার। প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেওয়ার পর সোমবারই ভারত জানিয়েছিল, ভারত শ্রীলঙ্কার পাশে আছে। শ্রীলঙ্কার গণতন্ত্র রক্ষা করতে সাহায্য করবে ভারতের সরকার। তাই মঙ্গলবার মাহিন্দা সপরিবারে উধাও হওয়ার পর অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন বন্ধু দেশ ভারতেই হয়তো তিনি আশ্রয় নেবেন। অনলাইনেও দ্রুত খবরটি ছড়িয়ে পড়ে।

পরে ভারতীয় হাই কমিশনারের তরফে একটি টুইটে লেখা হয়, ‘কলম্বোর ভারতীয় দূতাবাস সম্প্রতিই জেনেছে শ্রীলঙ্কার কয়েকজন রাজনীতিক সপরিবার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার একটি ভুল খবর ছড়িয়ে পড়েছে। খবরটি শুধু ভুয়া তা-ই নয়, বিষয়টি আগাগোড়া মিথ্যা। ভারত এই রটনাকে অস্বীকার করছে’।