৪ কোটি টাকার দুই পাম্পে পানি ওঠে না

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত দুটি পাম্পে পানি উঠছে না। এতে পানি সরবরাহ স্বল্পতায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বন্দিরা। স্থাপনের পর থেকেই পানির পাম্প দুটি বিকল। কারা কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে দুটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত পাম্প দিয়ে পানি তুলে কোনোরকমে চাহিদা পূরণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে ২৮ একর জায়গার ওপর ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন কারাগার নির্মিত হয়। ওই সময় পাম্প দুটি স্থাপন করা হয়। গতকাল বুধবার পর্যন্ত এ কারাগারে ১ হাজার ৪৪৫ বন্দি ছিল। পানির অভাবে তাদের খাওয়া-দাওয়া ও গোসলে সমস্যা হচ্ছে। কিন্তু ঝামেলায় পড়তে পারেন এ আশঙ্কায় বন্দিরা কিছু বলার সাহস করছেন না।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে আসা কয়েকজন হাজতি বলেন, কারাগার আধুনিক করা হলেও প্রায় দেড় হাজার হাজতি পানিসংকটে ভুগছেন। পানির অভাবে কেউ নিয়মিত গোসল করতে পারছেন না। কারাগারের ভেতরে বন্দিদের প্রচ- গরমে অতিষ্ঠ থাকতে হচ্ছে। পানির সমস্যাটাই সবচেয়ে বেশি থাকলেও ভয়ে কেউ কিছু বলেন না।

জেল সুপার বজলুর রশীদ জানান, কারাগারে সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বন্দিরা। প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি পাম্প স্থাপন করা হলেও তাতে পানি উঠছে না। পাম্প দুটি স্থাপনের দিন থেকেই বিকল হয়ে পড়ে আছে। অথচ সেগুলো সচল দেখিয়ে বিল তুলে নিয়ে গেছেন ঠিকাদার। তিনি বলেন, ‘বন্দিদের সমস্যা লাঘবে আমি নিজ উদ্যোগে দুটি শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি তুলে বন্দিদের পানির চাহিদা মেটাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বাহাদুর আলী দাবি করেন, ‘দুটি পাম্প বিকল তা ঠিক নয়। চলতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে একটি পাম্প মেরামত করে চালু করে দিয়েছি। দ্বিতীয়টি মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি।’