বিড়ি চাওয়ায় ধান কাটা শ্রমিকের কাঁচির কোপে হাত বিচ্ছিন্ন

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে বিড়ি চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকের ধারালো কাঁচির কোপে সেলিম নামের অপর এক শ্রমিকের ডান হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণি গ্রামে ঘটেছে ঘটনাটি।

জানা যায়, বর্ণি গ্রামের শফিকুল ইসলাম নামের কৃষক তার জমির ধান কাটতে বিভিন্ন অঞ্চলের ৯ জন শ্রমিক নিয়োগ করেন। সকালে তারা জমিতে ধান কাটতে যায়। ধান কাটা অবস্থায় অপর জমিতে কাজ করতে আসা বর্ণি গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে সেলিম নামের শ্রমিক শফিকুলের নিয়োগকৃত শ্রমিকদের নিকট বিড়ি চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাসুদ রানা ও আব্দুল লতিফ নামের শ্রমিক সেলিমের ডান হাত কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

আরও জানা যায়, খবরটি বর্ণি গ্রামে পৌঁছালে গ্রামের লোকজন শ্রমিকদের ঘেরাও করে মারধর করেন। স্থানীয়রা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬ শ্রমিককে আটক করেন। এ সময় জনরোষে পড়ে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ ৬ শ্রমিককে আটক করলেও বাকি ৩ শ্রমিক পালিয়ে যায়।

আটক শ্রমিকেরা হলেন- সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি থানার মাসুদ রানা (৩৭), একই জেলার বেলকুচি এলাকার আব্দুল লতিফ (৩০), টাঙ্গাইল সদর থানার ভবানিপুর গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলাম (৩০), সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি এলাকার মো. সাহাব উদ্দিন (২৭), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের নুরুজ্জামান (২৫) এবং সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী এলাকার নূর আলম (২২)। 

দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিড়ি চাওয়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় বর্ণি গ্রামের সেলিম নামের এক শ্রমিকের ওপর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কাজ করতে আসা শ্রমিকেরা হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৬ শ্রমিককে আটক করা হয় বাকি তিন শ্রমিক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সেলিম নামের শ্রমিকের ডান হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ভুক্তভোগীর বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।