মির্জাপুরে ইটভাটার ধোয়ায় ৫০ একর জমির ধান নষ্ট

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় কয়েকটি ইটভাটার ধোয়ায় প্রায় ৫০ একর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। দিন দিন ধানের পাতা পোড়ার পরিমাণ বাড়ছে। উপজেলার কদিম দেওহাটা ও মীর দেওহাটা এলাকার শতাধিক কৃষকের অভিযোগ, ইটভাটার ধোঁয়া ও গ্যাসে তাঁদের ধানখেতের এমন ক্ষতি হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এসব এলাকার ১০-১২টি ইটভাটার চিমনির কালো ধোঁয়ার কারণে পাশের বোরো ধান খেতের ধানগাছের পাতা লালচে ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। ধানের ছড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাত দিলেই বুঝা যাচ্ছে প্রতি ছড়াতে চিটার পরিমাণ বেশি। ফসলের মাঠের পাশে থাকা বিভিন্ন ধরনের সবজিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন ও ভূক্তভোগী কৃষকরা জানান, উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের কদিম দেওহাটা, মীর দেওহাটা এলাকায় গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। এসব ইটভাটা গুলির আশপাশে রয়েছে বিশাল ফসলের মাঠ। এই ফসলের মাঠে এবছর অন্তত অর্ধ শতাধিক একর জমিতে চাষ হয়োছ বোরো ধান। ইতিমধ্যে সব জমিতেই ধানের শীষ দেখা দিয়েছে। আর কিছুদিন পরেই কৃষকের ঘরে ধান উঠার কথা। বোরো আবাদের শুরু থেকে পাশের ইটভাটা গুলিতে ইট পোড়ানো শুরু হয়।

গোড়াই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আবদুল হাই, উপজেলার গোড়াইল গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন, মীর দেওহাটা গ্রামের মোহাম্মদ আলী, ফজল মিয়া, মো. আমান উল্লাহ, শহিদুর রহমান ও ইউসুফ মিয়ার ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে ফসলের এমন ক্ষতি হচ্ছে বলে ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ওই ভাটা গুলিতে ইট পোড়ানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া চিমনির বদলে নিচ দিয়ে বের হয়েছে। এর প্রভাবে আশপাশের বোরো ধানখেতের পাতা পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

পাঁকার আগেই পুরো জমির ধানের পাতা ও ছড়া লালচে ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ একর জমির বোরো খেতের ধান নষ্ট হয়েছে। এসব ধানখেতের কোনোটার অর্ধেক, আবার কোনোটার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

মীর দেওহাটা গ্রামের নুরুল ইসলাম বলেন, তার গভীর নলকুপের অধীনে সাত একর বোরো আবাদের জমি রয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে বোনার পর থেকেই চারাগাছের পাতা বিবর্ণ হতে থাকে। এ অবস্থায় ধানের চারা বড় হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ ধরে পাতার রং দেখে মনে হয় পুড়ে গেছে। ধানের ছড়া নষ্ট হয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ফলনও অর্ধেকে নেমে আসবে বলে তিনি বলেন।

ওই গ্রামের আব্দুল খারেক বলেন, ৬০ শতক জায়গায় বোরো ধান চাষ করেন। চার-পাঁচ বছর আগে ওই স্থানে ইটভাটা নির্মাণ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে ইটভাটা বাড়তে থাকে। ইটভাটা হওয়ার আগে জমি থেকে তাঁরা যথেষ্ট ধান পেতেন। কিন্তু তিন বছর ধরে জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কদিম দেওহাটা গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, ৩০ শতক জমিতে বোরো ধান আবাদ করি। এতে যে ধান পেতাম গত তিন বছর ধরে ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, ঈদের আগেই তাঁর ভাটার আগুন নিভিয়ে ফেলেছেন। তাঁর ভাটার কারণে কোনো ধানখেত নষ্ট হয়নি।

ইটভাটার মালিক মো. আমান উল্লাহ বলেন, তাঁর ইটভাটার চিমনির উচ্চতা প্রায় ১৩০ ফুট, যার ধোঁয়া আকাশে মিলিয়ে যায়। ফলে তাঁর ভাটার কারণে ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। সাধারণত নীচু চিমনির ধোঁয়ায় ধান খেতের ক্ষতি হয়ে থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার পালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই এলাকায় বোরো ধান ক্ষেত ক্ষতির কথা শুনেছেন।

সংশ্লিষ্ট এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি নিজেও এসব এলাকা পরিদর্শন করবেন বলে জানান।