রাইনোপ্লাস্টি হলো নাকের সার্জারি চিকিৎসা। যার মাধ্যমে জন্মগত বা আঘাতের কারণে নাকের আকৃতিগত যে বিকৃতি হয়, তা সংশোধন বা নিরাময় করা যায়। রাইনোপ্লাস্টির মাধ্যমে বোঁচা, থ্যাবড়ানো বা বসে যাওয়া নাক খাড়া করা যায়। আবার বেঁকে যাওয়া নাক, কোঁকড়ানো নাক সোজা করা যায়, আবার বেশি খাড়া নাক, পাখির ঠোঁটের মতো নিচের দিকে বাঁকানো নাকও স্বাভাবিক আকৃতিতে আনা যায়। মোটা নাককে করা যায় সরু আর সরু বা বন্ধ নাককে করা যায় প্রসারিত। রাইনোপ্লাস্টি শুধু নাকের সৌন্দর্যই ঠিক করে না, একই সঙ্গে নাককে যথাযথভাবে কাজ করতেও সাহায্য করে।
কারণ
নাকের এই আকৃতিগত সমস্যা জন্মগতভাবে যেমন হয়ে থাকে, তেমনি নাকে বিভিন্ন ধরনের আঘাত, যেমন সড়ক দুর্ঘটনার কারণে বা যেকোনো ধরনের সংঘর্ষের কারণে অথবা খেলাধুলার সময় বা সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে হতে পারে। আবার বিনা অপারেশনে নাকের পলিপ, মাংস বৃদ্ধি নিরাময়ের প্রলোভনে নাকে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ (যেমন অ্যাসিড) প্রয়োগ করার কারণেও নাকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া রাইনোপ্লাস্টি অপারেশন নাকের অভ্যন্তরীণ আরও বিবিধ সমস্যার সমাধান করতেও প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসা
রাইনোপ্লাস্টি অপারেশন সাধারণত খুব জটিল নয়। তবে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক ছাড়া করালে সৌন্দর্যহানি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপারেশনের পর কিছু কিছু পাশর্^প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। যেমন : মাঝে মাঝে নাক দিয়ে রক্ত পড়া। নাক দিয়ে শ্বাস নিতে অসুবিধা বোধ করা। নাকের চারপাশে অবশ বোধ অনুভব করা। অল্পমাত্রায় ব্যথা হওয়া।
তবে নাকে অসুবিধা থাকলেই সব ক্ষেত্রে রাইনোপ্লাস্টি করা যায় না। নাক বন্ধভাব, শ্বাস নিতে অসুবিধা, দেখতে অস্বাভাবিকতা থাকলে ডাক্তার সাধারণত অপারেশনের পরামর্শ দেন। যদি রোগীর অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হিমোফিলিয়ার মতো রক্তের অসুখ ইত্যাদি থাকে তাহলে তার জন্য রাইনোপ্লাস্টি প্রযোজ্য নয়। রাইনোপ্লাস্টি করার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। যেহেতু রাইনোপ্লাস্টিতে নাকের আকারের পরিবর্তন করা হয়, তাই আগে থেকে চিকিৎসককে জানিয়ে দিন আপনার পছন্দের আকারের কথা। প্রয়োজনে তাকে দিন ওই আকৃতির কারও নাকের ছবি। অথবা কম্পিউটারে নিজের ছবির সঙ্গে যে ধরনের নাকের আকার করতে চান তার ছবি বসিয়ে গ্রাফিকস করে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
রাইনোপ্লাস্টি করতে একাধিক অপারেশনও লাগতে পারে। সাধারণত নাকের ভেতরের দিক থেকে অপারেশন করতে হয়। তাই আলাদাভাবে দাগ থাকে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাইরের দিকেও কাটাছেঁড়া করতে হয়। সে ক্ষেত্রে দাগ থাকতেও পারে। অপারেশন করা যায় লোকাল বা স্থানিক অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে। প্রয়োজনে জেনারেল বা পুরো অজ্ঞান করতেও হতে পারে। সাধারণত ছোট অপারেশনের জন্য লোকাল অ্যানেসথেসিয়াই করা হয়। অপারেশনের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী বাড়ি যেতে পারে। হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নাও হতে পারে। আর অপারেশনের সময় দেওয়া ব্যান্ডেজ খুলতে হয় ৭ থেকে ১০ দিন পর। তবে এর পরও কিছুদিন নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন : প্রায় চার সপ্তাহ চশমা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হয়, নাক ফোলানো যায় না, নাকে যাতে আঘাত না লাগে সেজন্য খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলতে হয়। আমাদের দেশেই এ ধরনের সার্জারি হয়। তবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।