টানা বৃষ্টির কারণে দেশের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে। সিলেটের কয়েকটি উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুরমা নদীর পানি একাধিক পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সিলেট জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। আগামী বুধবারের পর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। যা আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলের ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে রয়েছে। কানাইঘাট উপজেলা সদরের প্রধান বাজারে হাঁটুপানি রয়েছে। বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ৭৯ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্র জানায়, সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে গতকাল বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। জকিগঞ্জের অমলসিদে কুশিয়ারা নদী বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারি, গোয়াইন, পিয়াইন ও ধলাই নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর গাণিতিক মডেলভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। প্রধান নদীগুলো- সুরমা, কুশিয়ারা, ভোগাই-কংস, ধনু-বাউলাই, মনু, খোয়াই নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে সময় বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।