সুনামগঞ্জে এবারের ঈদুল আজহা যেন আনন্দের বদলে একরাশ হতাশা নিয়ে এসেছে হাওরপাড়ের কৃষক পরিবারগুলোর জীবনে। ফসলহানির ধাক্কায় অনেকের ঘরে নেই নতুন জামা-কাপড়ের উচ্ছ্বাস, নেই কোরবানির প্রস্তুতির স্বাভাবিক চাঞ্চল্যও। আয়-রোজগার হারিয়ে গ্রামীণ অনেক পরিবার এখন ঈদের আনন্দের বদলে কেবলই টানাপোড়েন আর দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গী।
হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ জমে উঠে গরু কুরবানিকে ঘিরে। সঙ্গে শিশু বাচ্চাদের দিতে হয় নতুন জামা কাপড়। তবে এবার ঈদের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেক পরিবার কোরবানি দিতে পারছেন না, আর যাদের সামর্থ্য আছে তারাও কম দামে গরু কিনছেন। সব মিলিয়ে ঈদে ভাল নেই হাওরপাড়ের মানুষেরা।
জোয়ালভাঙা হাওরের কৃষক শহিদুল জানান, এবার গোলাভরা ধান ঘরে তুলতে পারেনি। মনে আনন্দও নেই। তার ইচ্ছে ছিল ধান বিক্রি করে বড় একটি গরু কুরবানি দেবেন। দুরের আত্মীয়দের পাঠাবেন কুরবানির গোশত। কিন্তু ফসলডুবির কারনে এবার ছোট গরু দিয়ে কুরবানি দিতে হচ্ছে। আত্মীয়দের পাঠাতে পারবেননা গোশত। এবার গরু কুরবানি দিয়ে মন ভরবেনা তার।
এক ইউপি সদস্য ফয়জুর রহমান বলেন, ঈদের আগে ফসলহারা কৃষকদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল সরকারের। কিন্তু ঈদের আগে সহায়তা না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। হাওরের কান্না এখনও থামেনি। হাওরে ঈদের আনন্দ নেই বললে মন্তব্য করেন তিনি।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান বলেন, বোরো জমি তলিয়ে যাওয়ার পর ফসলের ধান কেটে মাড়াই ও শুকানোর জন্য মাঠে রেখেছি। সেই ধান ও বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। রোদ উঠলে শুকাতে যাই পরক্ষনেই বৃষ্টি এসে পড়ে। এই রোদ এই বৃষ্টির কারনে ধান শুকাতে পারছিনা।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বলেন, হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা ঈদের আগেই প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আশা করি কৃষকগন আনন্দে ঈদ কাটতে পারবেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নজরুল জয়ন্তী উদযাপন