এবার টিভির নারীদেরকেও মুখ ঢাকার আদেশ তালেবানের

এবার আফগানিস্তানের সকল নারী টিভি উপস্থাপক সহ টেলিভিশন স্ক্রিনে হাজির হওয়া সকল নারীকে সম্প্রচারের সময় তাদের মুখ পুরোপুরি নিকাবে ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছে তালেবান সরকার।

তালেবানের ধর্মীয় পুলিশের একজন মুখপাত্র বিবিসি পশতুকে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবারই সকল গণমাধ্যমকে সরকারের এই আদেশ সম্পর্কে জানানো হয়েছে।

আফগান নারীদের জন্য ঘরের বাইরে বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা এবং বোরকা না পরলে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই নতুন এই আদেশ জারি করা হল।

তালেবানরা ফের আফগানিস্তানের নারীদের ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। পুরুষ আত্মীয় ছাড়া নারীদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো এখনো বন্ধ রয়েছে।

নতুন এই আদেশ নিয়ে টুইটারে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকে এই আদেশকে উগ্রবাদ প্রচারের জন্য তালেবানের আরেকটি পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

এক নারী অধিকার কর্মী টুইট করেছেন, ‘বিশ্ব মানুষকে কোভিড থেকে রক্ষা করার জন্য মুখোশ পরার নিয়ম করে। আর তালেবানরা নারী সাংবাদিকদের মুখ দেখা থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য মুখোশ পরা বাধ্যতামূলক করে। তালেবানদের জন্য, নারীরা যেন একটি রোগ’।

বেসরকারী শামশাদ নিউজ চ্যানেল তাদের নারী সংবাদ উপস্থাপকের মুখোশ পরা একটি ছবি পোস্ট করেছে এবং অনুরূপ অনেক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হচ্ছে।

গত বছরের আগস্টে ক্ষমতা গ্রহণের পর তালেবানরা এই বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নারীদের কী পরতে হবে সে বিষয়ে নতুন কোনো আইন জারি করা বন্ধ রেখেছিল।

কিন্তু মে মাসের শুরুর দিকেই পাপকাজে বাধাদান এবং পুণ্যকাজে সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে যে, আফগান নারীদেরকে জনসমক্ষে তাদের মুখ ঢেকে রাখতে হবে। আর, কেউ যদি এই আইন মেনে চলতে অস্বীকার করে তাহলে তাদেরকে ক্রমবর্ধমান শাস্তি আওতায় আনা হবে।

সর্বশেষ এই আদেশে এটাও স্পষ্ট করে বলা হয় যে, টিভিতে বা পর্দায় অভিনয় করা সকল নারীকেই তাদের মুখ ঢেকে রাখতে হবে।

আফগানিস্তানের টোলো নিউজ জানিয়েছে, দেশের সমস্ত গণমাধ্যম কার্যালয়ে এই আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে।