সমীকরণটা ছিল এমন— শিরোপা ধরে রাখার জন্য হয় জয় নয়তো ড্র করতে হবে ম্যানচেস্টার সিটিকে। অন্যদিকে ‘কোয়াড্রপল’ জয়ের স্বপ্ন দেখা লিভারপুলকে জিততেই হতো। ২০১১-১২ মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ যারা দেখেছেন, তাদের হয়তো মনে থাকার কথা সেই রাত কেমন রোমাঞ্চের ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে সিটি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে কিউপিআরকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল, প্রায় তেমন আরেকটা রাত উপহার দিল এবার পেপ গার্দিওলার দল। শেষ রাউন্ডের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো সিটিজেনরা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার প্রিমিয়ার লিগ জিতল সিটি।
লিগের ৩৭ ম্যাচ শেষে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ছিল ৯০ এবং লিভারপুলের ৮৯। একই রাতে দু’দল নিজেদের মাঠে নামল শিরোপা মীমাংসা করতে। জিতল দু’দলই। কিন্তু উৎসব সারল সিটিজেনরা। ইতিহাদে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও পাঁচ মিনিটের ঝলকে ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে চ্যাম্পিয়ন গার্দিওলার দল।
ম্যাটি ক্যাশের ৩৭তম মিনিটের গোলে পিছিয়ে পড়েছিল সিটি। আরেক ম্যাচে তখন লিভারপুল ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে উলভসের বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায়। তার মধ্যে বিরতি থেকে ফিরে ফের গোল হজম করে বসে গার্দিওলার দল। ৬৯তম মিনিটে অলরেডদের সাবেক তারকা ফিলিপে কুতিনহোর গোলে শিরোপা স্বপ্নটা ফিকে হতে বসেছিল সিটির।
ভিলার কোচ স্টিভেন জেরার্ডও হয়তো আশায় ছিলেন, সিটির শিরোপা কেড়ে নিতে। তিনিও যে এক সময় পুরো ক্যারিয়ার অ্যানফিল্ডে কাটিয়েছেন। কিন্তু ইলকে গুন্দোগানের ঝলকে সব সমীকরণ জলের মতো পরিষ্কার করে দিল সিটি। গোলের জন্য মরিয়া গার্দিওলার শিষ্যরা জ্বলে উঠল ম্যাচের ১৪ মিনিট বাকি থাকার আগে।
এই ম্যাচের এমন রোমাঞ্চ বোঝাতেই ১০ বছর আগের সেই কিউপিআর ম্যাচের উদাহরণ টানা। যেখানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড জয়ের পর ভেবেছিল তারা শিরোপা জিতে গেছে। কিন্তু সার্জিও আগুয়েরো শেষ মুহূর্তের গোলে শিরোপা যায় ইতিহাদে। এবারও তেমন এক রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিল সিটি।
ভিলার বিপক্ষে ৭৬তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় গার্দিওলার দল। রহিম স্টার্লিংয়ের পাসে জাল খুঁজে নেন গুন্দোগান। এর দুই মিনিট পর রদ্রির দুর্দান্ত শটে সমতায় সিটি। তিন মিনিট পর কেভিন ডি ব্রুইনের অ্যাসিস্টে গুন্দোগানের জয়সূচক গোল। বার্নার্দো সিলভার পরিবর্তে ৬৮তম মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন জার্মান মিডফিল্ডার। সিটির জয়টাও এলো তার হাত ধরে।
অন্যদিকে আরেক ম্যাচে তখন জয়ের আশায় লড়ছে লিভারপুল। সেই সঙ্গে তাদের সমর্থকেরা সিটির পরাজয়ের প্রার্থনায়। কিন্তু ‘ফুটবল ঈশ্বর’ আর হতাশ করেননি সিটিজেনদের। তার আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে যে তাদের হতাশ হতে হয়েছিল। তা তো বেশিদিন হয়নি।
অলরেডরা অবশ্য ৩-১ গোলে হারিয়েছে উলভসকে। পিছিয়ে পড়েও তারা জয় পেয়েছে। কিন্তু সে জয় যে তাদের আনন্দের চেয়ে বেদনার হয়ে থাকলো বেশি! ৯২ পয়েন্ট নিয়েও রানার-আপ হলো ইউর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। ৯৩ পয়েন্ট শিরোপা জিতে নিল ম্যানচেস্টার সিটি।