এএফসি কাপে অভিষেক থেকে শুরু করে টানা পাঁচ ম্যাচ হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়নি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নদের। শনিবার সেই দলটিকেই কিনা শনিবার ৪-০ ব্যবধানে হারতে হলো! তাও সেটা গোকুলামের কাছে যাচ্ছেতাই হারে শুরু করা মোহনবাগানের কাছে! ধাক্কা সামলাতেই গতকালের নির্ধারিত অনুশীলন বাতিল করেছেন কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজন। গোটা দিন বলতে গেলে একাই সময় কাটিয়েছেন, বাকরুদ্ধ শিষ্যদের সময় দিয়েছেন শোক কাটিয়ে পরের ম্যাচের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের। এএফসি কাপের গ্রুপসেরা হওয়ার আশা যে এখনো টুটে যায়নি।
ব্রুজন কৌশল সাজান আক্রমণাত্মক। হাই লাইন ডিফেন্স করে চান আক্রমণের ধার বাড়াতে। কৌশলী ফেরান্দো সেটা ধরতে পেরে নেন প্রতি আক্রমণনির্ভর কৌশল। তপু বর্মনহীন কিংসের ডিফেন্সও মেরিনার্স সমর্থকদের খুশি করতে ছিল তৎপর। তিন তিনটে গোল উপহার দিয়ে লিস্টন কোলাসোকে হ্যাটট্রিক করার সুযোগ করে দেন বিশ্বনাথ ঘোষ, খালিদ সাফিই, তারিক কাজীরা। তাতে প্রশ্ন জাগে, ব্রুজনের কেন এই আত্মঘাতী কৌশল?
ব্রুজন হয়তো যা গেছে, তা নিয়ে আর আলোচনায় যেতে চাননি বলেই সবাইকে চুপ থাকতে বলেছেন। সেটা হয়তো সামনে একটা সুযোগ আছে বলেই। দুটি করে ম্যাচ শেষে গ্রুপের চার দলের পয়েন্টে সাম্য (৩ করে)। আগামীকাল শেষ ম্যাচে কিংস খেলবে গোকুলাম কেরালার বিপক্ষে। গ্রুপসেরা হতে এই ম্যাচে জিততেই হবে কিংসকে। আর পরের ম্যাচে মোহনবাগান পয়েন্ট খোয়ালে সেরা হবে কিংস। এএফসির অদ্ভুত এক ফরম্যাটের সুবিধা নিয়ে অবশ্য সেই ম্যাচ মাজিয়ার বিপক্ষে পরে খেলতে নামবে স্বাগতিকরা। আবাহনী জিতে গেলে মাজিয়ার সেরার হিসাব চুকে যাবে। তখন বাগানের বিপক্ষে মালদ্বীপের নিবেদন থাকবে কেমন, দলটি কতটা গুরুত্ব নিয়ে খেলবে তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। সবচেয়ে ভালো হতো যদি দুটি ম্যাচ একই সময় দুটি আলাদা ভেন্যুতে হতো। এএফসির মিডিয়া কর্মকর্তা জুংহোয়ান ওন দেশ রূপান্তরকে কাল যুক্তি দিয়েছেন এভাবে, ‘সবই মেনে নিচ্ছি। তবে পরিস্থিতির কারণেই এক ভেন্যুতে খেলা ফেলতে হয়েছে। তা ছাড়া এসব ম্যাচের জয়-পরাজয়ে ক্লাব কম্পিটিশনের পয়েন্ট জড়িত। তাই আমার বিশ্বাস মাজিয়া ওরকম (ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার মতো) কিছু করবে না।’
শেষ ম্যাচে কী হবে সেটা নিয়ে অবশ্য ভাবার সুযোগ নেই কিংসের। ৪-০ হারের শোক ভুলে সব প্রশ্নের জবাব দিতে আগে ব্রুজনকে দল জেতাতে হবে গোকুলামের বিপক্ষে।