আজ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় গম বাংলাদেশে আসতে পারে। গত সোমবার রাতে ভারত সরকার এক প্রজ্ঞাপনে গম রপ্তানি আবার চালুর বিষয়টি জানিয়েছে। ফলে ১২ মে পর্যন্ত হওয়া এলসির বিপরীতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে গম আসা শুরু হবে।
এর আগে তীব্র দাবদাহে ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর ফলে নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ মে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এদিকে চাহিদা না থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে গমের দাম কমেছে কেজিতে ৩ টাকা। কয়েকদিন আগেও গমের দাম ৪১ থেকে ৪২ টাকায় উঠলেও বর্তমানে ৩৮ থেকে ৩৯ টাকায় নেমে এসেছে।
হিলির বিভিন্ন মিলে গম সরবরাহকারী রবিউল ইসলাম বলেন, ৩৪ দশমিক ৫০ টাকা থেকে ৪১-৪২ টাকায় ওঠার পরে মিলগুলো গম কেনা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। বাড়তি দামে মিলাররা কিছু গম ক্রয়ও করেছিল। কিন্তু মিলগুলোতে গমের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার কারণে কেউ এখন আর গম কিনছে না। ফলে গমের দাম কমতে শুরু করেছে। নতুন করে গম আমদানি শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার প্রভাব পড়ে বাজারে। সেই সঙ্গে প্রতি ডলারের দাম ৮৪ টাকা হিসেবে এলসি খোলা হলেও বিল পরিশোধের সময় সেই ডলারের মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে ৯৪ টাকা কেজি দরে। তার প্রভাবে বাজারে গমের দাম বৃদ্ধি পায়। তবে গমের আমদানি বন্ধ থাকলেও এবং ডলারের মূল্য বাড়লেও গমের ক্রেতা না থাকায় গম নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত গমের একমাত্র গ্রাহক ছিল দেশের বিভিন্ন স্থানের ফ্লাওয়ার মিলগুলো। কিন্তু বর্তমানে এসব ফ্লাওয়ার মিল গম ক্রয় করা বন্ধ রেখেছে যার কারণে বাজারে গমের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। গমের বেচাকেনা না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে গমের দামের ওপর। সুতরাং আমদানিকারকরা খানিকটা কমদামে গম ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, আগে বন্দর দিয়ে দিনে ৫০-৬০ ট্রাক করে গম আমদানি হলেও বর্তমানে গমের আমদানি নিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে মাত্র ২টি ট্রাকে ৭৪ টন গম আমদানি হয়। গত শনিবার, রবিবার ও সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোনো গম আমদানি হয়নি।