যুক্তরাষ্ট্রে ৫ মাসে ২১২ বন্দুক হামলা

সারা বিশ্বে গণতন্ত্রের অজুহাতে মানবাধিকার প্রশ্নে জ্ঞান দিয়ে বেড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকারের অবস্থাই নড়বড়ে। প্রায়ই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বন্দুক হামলার শিকার হয়ে অনেককে নিহত হতে দেখা যায়। এই হামলাগুলোর অধিকাংশই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ-কেন্দ্রিক। এর বাইরে যে ঘটনাগুলো ঘটে তাকে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের রব এলিমেন্টারি স্কুলে সম্প্রতি বন্দুক হামলায় ২১ জন নিহতের ঘটনায় স্তম্ভিত পুরো দেশ। এ ঘটনায় এরইমধ্যে পাঁচ দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজ। তবে দেশটিতে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। বেসরকারি সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের (জিভিএ) বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত নির্বিচারে গুলিবর্ষণের অন্তত ২১২টি ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব গুলিবর্ষণের ঘটনায় হামলাকারী ছাড়া চার বা ততোধিক ব্যক্তি আহত বা নিহত হয় সেগুলোকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে সিএনএন এবং গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে এক আবেগঘন ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, আমরা জানি, অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে আর কখনো দেখতে পাবেন না। তারা কখনো সন্তানকে আর বিছানায় লাফিয়ে জড়িয়ে ধরতে পারবেন না। সন্তান হারানো আত্মার একটি টুকরো ছিঁড়ে ফেলার মতো। বন্দুক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন নিয়েও কথা বলেন তিনি। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, আমরা এমনটি কেন ঘটতে দিচ্ছি? প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১২ সালে কানেকটিকাটে একটি স্কুলে হামলা চালানো হয়। এতে ২০ শিশুসহ ২৬ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে এটিকেই সবচেয়ে বড় বন্দুক হামলা বলা হচ্ছে। গত ১৪ মে বাফেলো শহরের একটি ব্যস্ত সুপার মার্কেটে ঢুকে গুলি চালায় ১৮ বছরের এক তরুণ। এতে ১০ জন নিহত হয়। সম্প্রতি এমন ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে দেশটির মানুষের মধ্যে। বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করতে এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু মুনাফাভোগী করপোরেশন ও রিপাবলিকান শিবিরের পক্ষপাতিত্বের কারণে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টই শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা মুখ থুবড়ে পড়ে।