বিআইডাব্লিউটিসির স্টাফ পরিচয়ে ভুয়া টিকিট বিক্রি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে বিআইডব্লিউটিসির স্টাফ পরিচয়ে ভুয়া টিকিট বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাক চালকের সহকারীর কাছে এ ভুয়া টিকিট বিক্রি করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাক চালক সোহেল রানা চৌধুরী (২৮) নামের এক তরুণকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে। ঘটনায় ওই দিন রাতেই থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

অভিযুক্ত সোহেল রানা চৌধুরী দৌলতদিয়া ঘাট বাজার পুলিশ বক্স সংলগ্ন এলাকার জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ছেলে। তিনি নিজেকে একজন সংবাদকর্মী দাবী করে বিভিন্ন স্থানে পরিচয় দিয়ে থাকেন। 

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ মে) ভোরে সাতক্ষীরা থেকে সিরমিক্স পাউডার বোঝাই করে ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ট-১৮-২১৬৯) চালক আনোয়ার হোসেন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পৌঁছে টিকিটের জন্য বিআইডাব্লিউটিসির বুকিং কাউন্টারের কাছে চালকের সহকারীকে পাঠান। সহকারী মো. সোহেল কাউন্টারের পশ্চিম পাশে পৌঁছলে সোহেল রানা চৌধুরী নিজেকে বিআইডাব্লিউটিসির লোক পরিচয় দিয়ে ট্রাকে ওভার লোড (অতিরিক্ত ওজন) আছে বলে টিকিটের জন্য ৬ হাজার টাকা দাবি করেন। চাহিদা মতো মো. সোহেল তার কাছে ৬ হাজার টাকা প্রদান করলে হাতে একটি ফেরির টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়। টিকিটটি হাতে নিয়ে তাতে নম্বর কাটা এবং ওভার লোডের ভাড়া উল্লেখ নেই দেখে সন্দেহ হয়। দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে পৌঁছে বিআইডাব্লিউটিসির কর্তব্যরত এক স্টাফকে টিকিটটি দেখিয়ে ঠিক আছে কি না জানতে চান তিনি। তখন কর্তব্যরত ওই ব্যক্তি তার গাড়ির নম্বরে টিকিটটি কাটা নয় এবং টিকিটের স্কেল নম্বরও ঠিক নেই বলে জানান। বিষয়টি সাথে সাথে পুলিশের সহযোগিতা চান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘাটে উপস্থিত হয়ে টিকিটটি জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় চালক আনোয়ার হোসেন বাদি হয়ে মঙ্গলবার রাতেই গোয়ালন্দ ঘাট থানায় প্রতারণার অভিযোগে সোহেল রানা চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত সোহেল রানা চৌধুরী দাবী করেন, তার নিয়োজিত এক কর্মচারী ভুলবশত আগের একটি গাড়ির জন্য কাটা টিকিটটি তার হাতে দিয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে সঠিক টিকিট দিয়ে ঝামেলা মীমাংসা করা হয়েছে। এখানে সামান্য একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এছাড়া প্রতারণার অভিযোগ সঠিক নয়।  
  
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার মজুমদার জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত সোহেল রানা চৌধুরী পলাতক রয়েছে। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে কাজ করছেন।