জাহাজ শিল্পের দূষণের দায় নেই!

জলপথে পণ্য পরিবহন অবিশ্বাস্যরকম সস্তা হওয়ায় বিশ্বায়নের নামে অদ্ভুত সব ‘সাপ্লাই চেন’ গড়ে উঠেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ জাহাজের মাধ্যমে ঘটে। আপাতদৃষ্টিতে দেখলে জাহাজে পণ্য সরবরাহ অত্যন্ত কার্যকর এক প্রক্রিয়া মনে হবে। প্রথমত খরচ কম। দ্বিতীয়ত জাহাজে প্রতি টন পণ্য পরিবহনে কার্বন নির্গমন হারও কম। জাহাজে করে এক টন পণ্য পরিবহন করলে কিলোমিটারপ্রতি ১৬ গ্রাম কার্বন-ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়। বিমানযোগে পাঠালে সেই মাত্রা আরও অনেক বেশি। কিন্তু সার্বিকভাবে দেখলে গোটা বিষয়টি দুঃস্বপ্নের মতো। কারণ ৮০ শতাংশ জাহাজ হেভি ফুয়েল অয়েল ব্যবহার করে, যা মোটা, চটচটে, দূষণকারী জ¦ালানি। আর তা চলেও দীর্ঘপথ। এ হিসেবে জাহাজ শিল্প বিপুল পরিমাণ কার্বন ছাড়ে বাতাসে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে পরিবেশ দূষণের কারণে জাহাজ শিল্পকে এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হয় না।

অথচ জাহাজ শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের সব কয়লা কারখানার তুলনায় বেশি কার্বন নির্গমন করে। আর বিমান চলাচল শিল্পের তুলনায় তা সামান্য কম। ‘ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ নামের এক এনজিওর কর্মকর্তা ফাইগ আবাসভ বলেন, শিপিংই একমাত্র শিল্পক্ষেত্র, যা কার্বন দূষণের মূল্য দেয় না। এটাই একমাত্র শিল্পক্ষেত্র, যেটি জীবাশ্মভিত্তিক জ¦ালানি ব্যবহারের জন্য কোনো কর দেয় না। ভ্যাট বা বিক্রয় করও দেয় না। সম্প্রতি বিশ্বনেতারা কমপক্ষে ১৫ শতাংশ করপোরেট ট্যাক্সের হারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। কিন্তু একমাত্র জাহাজ পরিবহন শিল্পকে সেটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।’

কিন্তু দূষণের এত বড় মাত্রা সত্ত্বেও কেন এমনটা ঘটছে? বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ জাহাজের মাধ্যমে ঘটে বলে? নাকি পানামা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, লাইবেরিয়া, বাহামা ও মাল্টা এ পাঁচ দেশের ‘ফ্ল্যাগ অব কনভিনিয়েন্স’ নামের হেয়ালির কারণে সে প্রশ্ন ফাইগ আবাসভেরও।

দূষণ শুধু জাহাজ চলাচলেই হচ্ছে না। জাহাজ তৈরি ও ভাঙার সময়ও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশে। অনেক জাহাজেই পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি থাকে মানবস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকির তেজস্ক্রিয় পদার্থও। অথচ বিভিন্ন দেশের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে পরিত্যক্ত জাহাজ কাটার ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘পরিবেশগত ছাড়পত্রের’ তোয়াক্কা করেন না মালিকরা।