হাজার টাকায়ও মিলছে না ধানকাটা শ্রমিক

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় এবার ধানের ভালো ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। গত ২-৩ দিন উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঝিনাই ও বংশাই নদীর পানি বেড়ে গিয়ে উপজেলার বেশকিছু নিম্নাঞ্চলে বিলের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা বোরো ধান কাটা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। হাজার টাকা মজুরিতেও মিলছে না শ্রমিক। সময়মতো পাকা ধান তুলতে না পারায় মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শ্রমিকের অভাবে নিজেরাই পানিতে ডুবে থাকা ধান কেটে তোলার চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক।

সরেজমিনে উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি, বালিয়া, করটিয়াপাড়া, নিড়াইল খাটড়া; কাউলজানী ইউনিয়নের বাদিয়াজান; সদর ইউনিয়নের রাশড়া, মিরিকপুর, হান্দুলী, জিকাতলীপাড়া, সৈয়দামপুর, পৌলী, যৌতুকী, মটেশ্বরসহ কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে বেশকিছু এলাকায় দেখা গেছে মাঠের পর মাঠ পানিতে ডুবে আছে। ডুবে যাওয়া পাকা ধান ডুব দিয়ে কৃষকরা কাটার চেষ্টা করছেন।

ফুলকি দক্ষিণপাড়ার কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘মাঠের অধিকাংশ ধান পেকে গেছে। এ সময়ে বিলে পানি আসায় মহাবিপাকে পড়েছি। ১ হাজার টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই ধান কাটার বিনিময়ে জমির অর্ধেক ধান শ্রমিককে দিয়ে দিচ্ছেন।’

কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতি বিঘা জমিতে আবাদ করতে খরচ হয়েছে ৫-৬ হাজার টাকা। আর ধান কাটতে ৮-৯ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।’

শ্রমিকরা জানান, ‘অসময়ে পানি না এলে ধীরস্থিরভাবে ফসল কাটা যেত। এখন দিন-রাত কাজ করে সব ধান একসঙ্গে কাটতে হচ্ছে। তা ছাড়া সব জিনিসের দামও বেশি। তাই মজুরি বেড়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২৪ হাজার টন।