ওসিকে ‘মাসোহারা না দেওয়ায়’ নাজেহালের অভিযোগ

ঘটনার তদন্ত ছাড়াই প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ‘আর্থিক সুবিধা নিয়ে’ এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে দুটি চুরির মামলা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জ. মো. মাসুদুজ্জামান মিলুর বিরুদ্ধে। ওই ঠিকাদারের কাছ থেকে দাবিকৃত মাসোহারা না পেয়ে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম শিকারপুরের মেসার্স সরদার ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল।

লিখিত বক্তব্যে ফেরদৌস রাসেল জানান, তার চাচা এনায়েত হোসেন সরদারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এনায়েত সরদার তাকে ঘায়েল করতে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বাসার কেয়ারটেকারকে দিয়ে থানায় ১৮ হাজার ৫০০ টাকা চুরির অভিযোগ করান। ওসি সেই অভিযোগের কোনো ধরনের তদন্ত না করে সরাসরি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন (মামলা নং ০২/৩২)।

এ ছাড়া সেই একই বাদী ১১ মে ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেলের নিজের জমিতে তোলা ঘর থেকে মিটার চুরির অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগও তদন্ত ছাড়া মামলা হিসেবে গ্রহণ করে রাসেলকে গেপ্তার করেন ওসি মাসুদুজ্জামান মিলু। (মামলা নং ০৮/১১৬)। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের ছবি তুলে স্বপ্রণোদিত হয়ে ওসি বিভিন্নজনকে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করান।

রাসেল বলেন, আমি পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক। আমার মা, ভাই ও বোন ইউরোপে বসবাস করেন। অথচ আমার বিরুদ্ধে একই বাদী দিয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে আমি সামান্য সাড়ে ১৮ হাজার টাকা চুরি করেছি। শুধু সেখানেই শেষ নয়, আমার নিজের ঘরের মিটার চুরি আমি নিজে করেছিÑ এমন মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাভোগও করতে হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে ওসি আ. জ. মো. মাসুদুজ্জামান মিলু পিরোজপুর সদর থানায় যোগ দেওয়ার পরে বিভিন্নজনের মাধ্যমে আমাকে খবর পাঠাতেন এবং ডেকে মাসোহারা দাবি করতেন। আমি দিতে অস্বীকার করায় তিনি বলেছিলেন, আমাকে এমন ক্ষতি করবেন যেন কারও কাছে মুখ দেখাতে না পারি। আমি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও আমার বিরুদ্ধে একের পর এক চুরির মামলা তদন্ত ছাড়া গ্রহণ করে তার মনে জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিশোধ নিচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার ওসি আ. জ. মো. মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, ‘চাচা মামলা করলে আমার কিছুই করার নেই।’