মঞ্চে ধুলো থাকলে সমস্যা হতো কেকে’র

দুই হাজার আসনসংখ্যার নজরুল মঞ্চে সাত হাজার লোক ছিল বলে অভিযোগ। গায়ক কেকে’র মৃত্যুর সঙ্গে এ ঘটনাকে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, বলিউড গায়কের আগে থেকেই ধুলো ও গরম নিয়ে সমস্যা ছিল।

এক সাক্ষাৎকারে কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে’কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, মঞ্চে অনুষ্ঠান করার সময় আপনি কী খেয়াল রাখেন? উত্তরে কেকে জানিয়েছিলেন, যখন তিনি কোনো অনুষ্ঠান করতে যান, গোটা মঞ্চ পানি ঢেলে ভিজিয়ে দিতে বলেন। কেন না, মঞ্চে ধুলো উড়লে অনুষ্ঠান করতে তার সমস্যা হয়।

আরও জানিয়েছিলেন যে, কোনো অনুষ্ঠান করতে গেলে মঞ্চে ওঠার আগে তিনি কিছু খান না। পেট হালকা রাখার জন্যই এই কৌশল অবলম্বন করতেন।

মঙ্গলবার কলকাতায় নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠানের সময় মাঝে মাঝেই ব্যাক স্টেজে গিয়ে ঘাম মুছতে দেখা গিয়েছিল কেকে’কে। স্পটলাইট নেভানোর জন্যও আয়োজকদের অনুরোধ করেন। জানিয়েছিলেন তার অস্বস্তির কথাও। কিন্তু এরপরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যান তিনি।

তালিকার শেষ গানের সময় অসুস্থ বোধ করেন কেকে। দরদর করে ঘামছিলেন। যে হোটেলে তিনি উঠেছিলেন সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। আরও অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার নজরুল মঞ্চের অনুষ্ঠানে বিপুল ভিড় হয়েছিল। দুই হাজার আসনসংখ্যার প্রেক্ষাগৃহে সাত হাজার লোক ছিলেন বলে অভিযোগ। কেকে’র অকালমৃত্যুতে প্রেক্ষাগৃহের পরিস্থিতি সামলাতে উদ্যোক্তাদের ব্যর্থতাই দায়ী কি না, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, ভিড় সামলাতে নজরুল মঞ্চের সাতটি দরজার মধ্যে পাঁচটিই খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সূত্রের আরও দাবি, মঞ্চের সামনে ভিড় হটাতে একটা সময় সেখানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থেকে রাসায়নিক স্প্রে করা হয়েছিল। বস্তুত, ফেসবুকে কেকে’র অনুষ্ঠানের যে ভিডিও পোস্ট করেছেন অনেকে, তাতে এটা স্পষ্ট যে, অনুষ্ঠান মঞ্চের আশপাশে খুব একটা শৃঙ্খলার বালাই ছিল না।