৫৭ বছর পর যাত্রা করল ‘মিতালী এক্সপ্রেস’

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়েছে। ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫০ মিনিটে। নিউ জলপাইগুড়িতে ট্রেনটি পৌঁছাবে পর দিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে। 

বুধবার সকালে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে ৩টা ৫০ মিনিটে ১৩ যাত্রী নিয়ে মিতালী এক্সপ্রেস পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আসে। এরপর ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায় ৪টা ১৫ মিনিটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পার্বতীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. শওকত আলী। 

পার্বতীপুর স্টেশনে দুই দেশের ট্রেন পরিচালক, গার্ড ও যাত্রীদের কুশল এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. হাফিজুল ইসলাম প্রামানিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আমজাদ হোসেন, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান আমিরুল মোমিন ও রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক দেওয়ান জিয়াউর প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত থেকে ট্রেন পরিচালনাকারী সদস্যদের ও যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো ও মিষ্টি মুখ করানো হয়। 

পার্বতীপুর রেল স্টেশন বিরতীকালে ভারতের শিলিগুড়ি ট্রেন যাত্রী চিত্রা রানী বলেন, ভাবতেও পারিনি আমি ট্রেনে করে বাংলাদেশ আসব। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছি, খুব ভালো লাগছে।  

পার্বতীপুর রেল স্টেশন বিরতীকালে মিতালী ট্রেনের এসি ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা শ্রী যুক্ত রায় বলেন, এই মিতালী এক্সপ্রেস দুই দেশের মেলবন্ধন। দুই দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমি বাংলাদেশের মাটিতে এসেছি। নিজেকে খুব ভাল লাগছে।   

ট্রেনটি হলদিবাড়ি (ভারত)-চিলাহাটি (বাংলাদেশ) রুট হয়ে দিয়ে চলাচল করবে। মিতালী এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি ছেড়ে হলদিবাড়ি, চিলাহাটি, দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে জংশন পার্বতীপুর রেল স্টেশন হয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছাবে।  

দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত এ রেলপথে নিয়মিত চলাচল করত একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন। ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ আমল থেকেই চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিল্লিতে ভারতের রেলওয়ে বোর্ডের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিউ জলপাইগুড়ি জংশনে মিতালী এক্সপ্রেসের প্রথম যাত্রার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন ভারতের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। 

নয়াদিল্লি থেকে স্থানীয় ভাতীয় সময় বুধবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে ট্রেনটির ভার্চ্যুয়াল ‘ফ্ল্যাগ অফ’ করেন দুই দেশের রেলমন্ত্রী। ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশ-ভারতের প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে এ রেলপথ উদ্বোধন করেছিলেন।