ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি বরাদ্দের ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে গালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অহিদ শরীফের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম।
তিনি বলেন, বার বছর আগে স্বামী আমাকে ফেলে রেখে চলে গেলে শ্বশুরবাড়ি একই ইউনিয়নের কানুদাশকাঠী গ্রাম থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি গালুয়ায় চলে আসি। বাবার দেওয়া একটুখানি জমিতে ছন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘর করে কোনভাবে থাকা শুরু করি।
আরও বলেন, তিন বছর আগে কাজের উদ্দেশ্যে গালুয়া বাজারে আসলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ শরীফের সঙ্গে দেখা হয়। তখন অহিদ শরীফ বলেন, ‘তোর তো ঘর নাই। আমাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিলে তোকে একটি পাঁচ লাখ টাকার সরকারি ঘরের বরাদ্দ এনে দেব।’ এরপর আমার জমানো ছত্রিশ হাজার টাকা অহিদ শরীফকে পরিশোধ করি। এরপর আমাকে ঘর দেবে দেবে বলে ঘুরাতে থাকে। ঘরের আশায় তিন বছর অপেক্ষা করে আমার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে ইউএনও টাকা খেয়ে বদলি হয়ে গেছে বলে আমাকে জানায় অহিদ শরীফ।
ফেরদৌসী বেগম বলেন, আমি যক্ষ্মায় আক্রান্ত। টাকার জন্য আমার চিকিৎসা হচ্ছে না। এ ব্যাপারে আমি বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তবে অহিদ শরীফ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক পক্ষ আমাকে হয়রানি করার জন্য ফেরদৌসীকে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তেই ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান খান বলেন, সরকারি ঘরের বরাদ্দ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে গালুয়ায় একজন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমি উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।