নির্মাণের আগেই ধসে পড়ল স্কুলের ওয়াশব্লকের ছাদ

 

 

ফেনীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক (শৌচাগার, হাত ধোয়ার স্থান) নির্মাণকাজ শেষের আগেই এটির ছাদ ধসে পড়েছে। এতে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্কুলটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে। ফেনী পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ড চাড়িপুর এলাকার পশ্চিম চাড়িপুর কাজি হরমুজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বুধবার বিকেলে ঘটেছে এ ঘটনা।

ফেনী সদর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান পারভেজ জানান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ফেনী সদর উপজেলায় ৬০ লাখ টাকার চেয়ে কিছু বেশি অর্থায়নে একটি প্যাকেজে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজ চলছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে দোতলা ভবনবিশিষ্ট ৬টি করে ২৪টি ওয়াশব্লক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স স্বাদ এন্টারপ্রাইজ। ১৫ লাখ টাকার কিছু বেশি অর্থায়নে ফেনী পৌরসভার চাড়িপুর এলাকার পশ্চিম চাড়িপুর কাজি হরমুজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণকাজের ৬ মাস মেয়াদি প্রকল্পটিতে প্রায় তিন মাস পূর্বে শুরু হওয়া কাজ চলমান।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরুতে কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে কাজ করছিল। কলাম, পিলার ভিম, ছাদ ও সেপটিক ট্যাংকের কাজ শেষে বর্তমানে ছাদ ও ইটের গাঁথুনির কাজ চলমান। সম্প্রতি নিচতলার একটি ছাদ ঢালাইয়ের দুদিন পর ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত পুরো ভবনের সব ছাদ ভেঙে নতুন করে করার নির্দেশ দিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের এক নির্মাণশ্রমিক জানান, এখানে পেটের দায়ে কাজ করতে এসে জীবনের ঝুঁকির মধ্যে আছি। কারণ, এখানে কাজের কোনো মান নেই। যেকোনো সময় অন্য ছাদও কখন ধসে পড়ে সেই ভয়ের মধ্যে আছি।

ওই এলাকার আবদুল আউয়াল সুজন বলেন, তারা সরকারের উন্নয়নের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এভাবে কাজ করছে। ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ৪-৫ লাখ টাকার মধ্যে কাজ শেষ করে বাকি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে। আমরা বারবার বাধা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। তাদের অবহেলার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী মারা যেত। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে তাদের বিচার করা হোক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া সুলতানা বলেন, শুরু থেকে কাজের মান খুবই খারাপ ছিল। তিন নম্বর ইট ও নিম্নমানের রড ব্যবহার করা হচ্ছে। ছাদে রডের পরিমাণ কম ছিল। সিমেন্ট কম দিয়ে বালু বেশি ব্যবহার ও তিন ইঞ্চি ঢালাইয়ের জায়গায় দেড় ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ায় নির্মাণের দু’দিন পরই ভেঙে পড়েছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহানা আক্তার জানায়, বুধবার দুপুরে ক্লাস চলা অবস্থায় হঠাৎ বিকট শব্দে নতুন ওয়াশ ভবনের নিচতলার একটি ছাদ ভেঙে পড়ে। আমরা এখন ভয়ে আছি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স স্বাদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহ আলম স্বপন জানান, তিনি কাজটি ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির ভূইয়া থেকে কিনে করছেন। হুমায়ুন কবির তার মামাতো ভাই।

তবে জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূইয়া জানান, তিনি কোনো বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকের কাজ করছেন না। কারা কাজটি করছেন তাও তিনি অবগত নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদার জানান, মোট বরাদ্দের ১০ থেকে ২০ শতাংশ টাকা অফিস ও নেতাদের অগ্রিম দিয়ে দিতে হয়। বাকি টাকা দিয়ে মানসম্মত কাজ করা যায় না।

নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল হক বলেন, ছাদ ধসে পড়ার কারণে পুরোটাই ভেঙে নতুন করে করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাদে রড কম দেওয়ার কারণে ধসে পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।