মনের দিক দিয়ে শক্তিশালী হওয়ার গুরুত্ব আমরা অনেকেই জানি না। আর তাই নিজের ভেতরকার মানুষটিকে উন্নত করার কোনো চেষ্টা-তদবির আমরা করিও না। অথচ আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ধন-সম্পদ ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য ও আধিক্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের ঐশ্বর্যই বড় ঐশ্বর্য।’ সহিহ্ মুসলিম : ২৩১০
স্বাভাবিক নিয়মে দুনিয়াতে যার সম্পদ আছে, সে আরও চায়। তার সম্পদ থাকা সত্ত্বেও সে গরিব-ফকিরের মতো আরও চায়। অপরদিকে, সম্পদ কম থাকায় মানুষ আল্লাহতায়ালাকে বেশি বেশি স্মরণ করে, কারণ তার অনেক অনেক প্রয়োজন এবং সে জানে দয়াময় আল্লাহ ছাড়া কেউই তার এই প্রয়োজন মেটাতে পারবে না।
মিথ্যা, রাগ, হিংসা, গর্ব, কৃপণতা, আত্ম-অহংকার, লোভ-লালসা, চোগলখোরি, পরচর্চা ইত্যাদি একজন মানুষের মনকে ধ্বংস করে মানুষের মনকে দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট করে ফেলে। পরকালে এর জন্য ভয়াবহ শাস্তি রয়েছে।
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজে বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের (সত্যিকারের) মুমিন কে তা বলে দেব না? (প্রকৃত মুমিন হলো সেই) যার (অত্যাচার, ষড়যন্ত্র) থেকে লোকেরা নিজেদের জান-মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুসলিম হলো সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা (ভাষা) ও হাত থেকে লোকেরা শান্তি লাভ করতে পারে। (প্রকৃত) মুজাহিদ হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্য করতে নিজের মনের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। আর (প্রকৃত) মুহাজির (হিজরতকারী) হলো সেই ব্যক্তি, যে সমস্ত পাপাচার থেকে হিজরত (বর্জন) করে।’ আহমাদ : ২৩৯৫৮
গ্রন্থনা : মাহমুদ হাসান