একদিকে শিক্ষক, অন্যদিকে আবার ইউপি সদস্য (মেম্বার)। এমন দুজন জনপ্রতিনিধি নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি বেতন-ভাতা নিচ্ছেন দুই প্রতিষ্ঠান থেকে। শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিয়ম না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার দুটি ইউনিয়নের দুজন সদস্য।
তাদের একজন শফিকুল ইসলাম চাঁদপাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। তিনি আবার উপজেলা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক। সেখান থেকে সরকারি ভাতা নেন ৪ হাজার টাকা আর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে সম্মানী নেন ১০ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন এই বেতন-ভাতা ভোগ করে আসছেন তিনি।
অন্যজন হলেন মিঠাখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রণব কুমার মজুমদার। তিনিও ইউপি সদস্য হিসেবে সম্মানী নেন ১০ হাজার টাকা। আর একই সঙ্গে চাঁদপাই মেছেরশাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসেবে বেতন নেন ২২ হাজার টাকা। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
মোংলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এ আনোয়ার উল কুদ্দুস ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন্ত কুমার পোদ্দার বলেন, এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) কোনো মাদ্রাসা বা স্কুল, কলেজের শিক্ষক যদি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন তাহলে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ইউনিয়ন পরিষদের এক জায়গা থেকে সরকারি বেতন-ভাতা নিতে পারবেন। যদি শফিকুল ইসলাম ও প্রণব কুমার মজুমদার দুই জায়গা থেকে বেতন-ভাতা নিয়ে থাকেন, তাহলে এ পর্যন্ত যা নিয়েছেন তা যেকোনো এক প্রতিষ্ঠানের টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।
চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম বলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা নিচ্ছেন। ইউপি সদস্য শফিকুল দুই জায়গা থেকে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, দুই জায়গা থেকে যে বেতন-ভাতা নেওয়া যাবে না, এটা আমার জানা নেই। ইউপি সদস্য প্রণব কুমার মজুমদারও একই কথা বলেন। মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, ওই দুই জনপ্রতিনিধি দুই জায়গা থেকে সরকারি টাকা নিচ্ছেন, তা আমার জানা ছিল না। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।