রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৭০ বছর প্লাটিনাম জুবিলিতে পালন করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সিংহাসনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের ঐতিহাসিক এই শাসনকাল সশরীরে উদযাপন করেন কোটি ব্রিটিশ। টেলিভিশনের পর্দায় এ রাজকীয় উৎসব উপভোগ করেছেন শতকোটি মানুষ। লিখেছেন নাসরিন শওকত
প্লাটিনাম জুবিলি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ব্রিটেনের অভিভাবক হিসেবে ২৫ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রানীর সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্তিতে প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন করছে যুক্তরাজ্যবাসী। ৯৬ বছর বয়সী রানীর এই ঐতিহাসিক শাসনকালকে স্মরণে চার দিনের জাঁকজমকপূর্ণ এ উৎসব চলছে লন্ডনসহ পুরো দেশজুড়ে। ২ জুন শুরু হওয়া এ রাজকীয় উৎসবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের রঙিন মহড়া, রাজকীয় কামানের তোপধ্বনি ও ঐতিহ্যবাহী বর্ণিল সামরিক কুচকাওয়াজসহ নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে ৬ জুন শেষ হবে। চারদিনের এ উৎসব ১১ কোটি ২০ লাখেরও বেশি ব্রিটিশ সরাসরি উপভোগ করেছেন।
যুবরাজ চার্লস ও যুবরাজ উইলিয়াম ঘোরায় চড়ে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ ট্রুপিং দ্য কালার-এ অংশ নেন। এ-সময় ঘোড়ার টানা গাড়িতে চড়ে ব্রিটিশ ডাচেস অব কর্নওয়েল ক্যামিলা ও ক্যাথরিন (কেট মিডলটন) কুচকাওয়াজে আসেন। এর শেষ অংশে লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদের ওপর দিয়ে রাজকীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান আকাশ প্রদক্ষিণ করে মহড়া চালায়। বাকিংহাম প্রাসাদের বারান্দা থেকে তা উপভোগ করেছে রাজপরিবার । এ-সময় রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ দর্শনার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা গ্রহণ করেন। তার পাশে ছিলেন রানীর উত্তরসূরি ৭৩ বছর বয়সী ছেলে যুবরাজ চার্লস, নাতি যুবরাজ উইলিয়াম, উইলিয়ামপতœী ক্যাথরিন ও তাদের তিন সন্তান।
এর আগে ১৯৭৭ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার সিংহাসনে আরোহণের সিলভার জুবিলি উদযাপন করেছেন। ২০০২ সালে ৫০ বছর পূতিতে গোল্ডেন জুবিলি ও ২০১২ সালে রানী এলিজাবেথ তার ৬০ বছর পূতিতে ডায়মন্ড জুবিলি উদযাপন করেন ।
চার দিনের উৎসব
ট্রুপিং দ্য কালারের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে প্লাটিনাম জুবিলির প্রথম দিনের (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়। এতে ১২০০ সেনা, ২০০ ঘোড়া ও সেনাবাহিনীর কয়েক শ’ বাদ্যযন্ত্রশিল্পী অংশ নেন। দুপুরে দেশজুড়ে ৪২টি কামানের তোপধ্বনি ও পরে টাওয়ার অব লন্ডনে ১২৪ রাউন্ড গুলির তোপধ্বনি দেওয়া হয়। এ উৎসবে অংশ নিতে সাধারণ ব্রিটিশরা অনুষ্ঠান চত্বরে দলে দলে আসতে থাকেন। সে-সময় তাদের হাতে ছিল নীল-লাল-সাদা রঙের ঐতিহ্যবাহী পতাকা, পিকনিকের বাস্কেট, বসার জন্য চাদর।
রাতে যুক্তরাজ্যের চারটি সর্বোচ্চ চূড়াসহ দুই হাজার আট শতাধিক আলোকশিখা জ্বালানো হয়। কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশে মশাল জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময়ের গর্বিত শাসক রানী এলিজাবেথকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার লন্ডনের সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে গ্রেট পল বেল বাজিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় দিন শনিবারের উৎসবে বাকিংহাম প্যালেসে আয়োজিত বিবিসি কনসার্টে প্রায় ২২ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের শেষ দিন গতকাল রবিবার মধ্য লন্ডনজুড়ে ‘প্লাটিনাম জুবিলি পেজেন্ট’ নামের এক গণকুচকাওয়াজ আয়োজন করা হয়। ‘বিগ জুবিলি লঞ্চেস’ নামের আরও একটি অনুষ্ঠানও হয়। এদিন একটি সৃজনশীল প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৫২ সালে রানীর শাসন শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ সমাজ বদলে যাওয়ার চিত্র ওই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে। লাখো ব্রিটিশ শেষ দিনের এ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী রাস্তার আড্ডায় অংশ নিয়েছেন। দেশের বড় বড় তারকা ও পুতুল হাতে সাধারণ ব্রিটিশরা ৩ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে এক আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। শেষবারের মতো রানী বাকিংহামের বারান্দায় একবারের জন্য দেখা দেবেন বলে অপেক্ষায় ছিলেন তার লাখো ভক্ত-অনুরাগী। এড শিরানের জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপনকে সামনে রেখে কয়েন, স্ট্যাম্প, কাপ ও অন্য আরও অনেক শুভেচ্ছা উপহার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রাজপরিবার।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ
বহু শতাব্দীর রাজতন্ত্রের ইতিহাসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সিংহাসনে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তার এই গৌরবময় শাসনামলে বিশে^র সবার ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করেছেন তিনি। ১৯২৬ সালে মেফেয়ারে রাজকুমারী এলিজাবেথের জন্ম হয়। সে সময় তার পরিবাবের কেউই আশা করতে পারেননি যে, একদিন তিনিই ব্রিটিশ সিংহাসনের রানী হবেন। কিন্তু ১৯৩৬ সালে ডিসেম্বরের একদিন সব কিছু পাল্টে যায়। তখন রাজকুমারীর চাচা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ড সিংহাসন থেকে পদত্যাগ করে তার বাবাকে রাজা হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে রাজকুমারীও সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকার হিসেবে থেকে যান।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯২৬ সালের ২১ এপ্রিল ২টা ৪০ মিনিটে লন্ডনের মেফেয়ারের বুটন স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ডিউক ও ডাচেস অব ইয়র্কের প্রথম সন্তান তিনি। পরবর্তী সময়ে ডাচেস অব ইয়র্কই রাজা ষষ্ঠ জর্জ হন। আর বাবার উত্তরসূরি হন রানী এলিজাবেথ। ওই বছরের ২৯ মে বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে তাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা দেওয়া হয়েছিল। এরপর তার নাম হয় এলিজাবেথ আলেকজান্দ্রা মেরি। সে-সময়ে এলিজাবেথ রাজসিংহাসনের উত্তরসূরির তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন। এ তালিকার প্রথমে ছিলেন তারা চাচা প্রিন্স অফ ওয়েলস অ্যাডওয়ার্ড (পরে যিনি রাজা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ড হন) এবং দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন তার বাবা দ্য ডিউক অব ইয়র্ক। তার মায়ের পরেই বাকিংহাম প্যালেসের ব্যক্তিগত উপাসনালয়ে খ্রিস্ট দীক্ষায় রাজকুমারী এলিজাবেথের এমন নামকরণ করা হয়।
রাজকুমারী এলিজাবেথের জীবনের প্রথম বছরগুলো কেটেছিল লন্ডনের ১৪৫ পিকাডিলির বাড়িতে। তার জন্মের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই বাড়িতে উঠে আসেন তার বাবা-মা। এরপরে রিচমন্ড পার্কের হোয়াইট লজেও কাটে তার কিছু সময়। এছাড়াও তার দাদার গ্রামের বাড়িতেও কিছু সময় কেটেছিল তার। এলিজাবেথের দাদা ছিলেন রাজা পঞ্চম জর্জ ও দাদি কুইন মেরি। তার মায়ের বাবা-মা ছিলেন স্ট্রাথমোরের আর্ল ও কাউন্টেস। ১৯৩০ সালে এলিজাবেথের বোন রাজকুমারী মার্গারেটের জন্ম হয়। এলিজাবেথের যখন ছয় বছর বয়স, তখন তার বাবা-মা তাদের নিজেদের গ্রামের বাড়ি রয়্যাল লজকে উইন্ডসোর গ্রেট পার্কে নিয়ে আসেন। ১৯৩২ সালের দিকে সিংহাসনের বসার সারিতে প্রথমে চলে এসেছিলেন রাজকুমারী এলিজাবেথ। সে সময় তাকে সাধারণ জনগণের বিষয়ে প্রবল আগ্রহী হয়ে উঠতেও দেখা যায়।
১৯৩৬ সালে এলিজাবেথের দাদা রাজা পঞ্চম জর্জ মারা যান। সে সময়েই রাজকুমারীর পারিবারিক জীবনের অবসান ঘটে। তার দাদার সবচেয়ে বড় ছেলে হিসেবে রাজা অষ্টম অ্যাডওয়ার্ড সিংহাসনে বসেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই রাজা অ্যাডওয়ার্ড সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মিস ওয়ালিস সিম্পসন নামের এক নারীকে ভালোবেসে বিয়ে করার জন্যই সিংহাসন ত্যাগ করেন তিনি। রাজা অ্যাডওয়ার্ডের পদত্যাগের সূত্র ধরেই ১৯৩৭ সালে এলিজাবেথের বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জ সিংহাসনে বসেন।
এরই মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। দুই রাজকুমারীকে নিরাপদে রাখতে ১৯৪০ সালে উইন্ডসোর ক্যাসেলে নিয়ে আসা হয়েছিল। ছয় বছরের ওই যুদ্ধের প্রায় পুরোটা সময় সেখানেই কেটেছিল তাদের। ওই সময়টা পুরো দেশ ও রাজপরিবারের জন্য খুবই কঠিন ও উদ্বেগের সময় ছিল। ওই যুদ্ধের মধ্যেই রাজকুমারী এলিজাবেথ ও মার্গারেট বাড়িতে থেকেই পাড়শোনা করতেন। ১৯৩৬ সালে যখন তার বাবা সিংহাসনে বসেন, সে-সময়েই এলিজাবেথ সিংহাসনে বসার সারির প্রথমে চলে আসেন। রাজকুমারী এলিজাবেথ সে সময় থেকেই সাংবিধানিক ইতিহাস ও আইন বিষয়ে পড়া শুরু করেন। এ পড়ায় তাকে তারা বাবা ও এটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রভোস্ট হেনরি মার্টেন সহায়তা করেছিলেন। ক্যান্টাবেরির আর্চবিশপের কাছ থেকে এলিজাবেথ ধর্মীয় বিষয়েও শিক্ষা পেতেন। সে সময় রাজকুমারী প্যালেসের একাধিক গভর্নেসের কাছ থেকে ফ্রেঞ্চ ও বেলজিয়ান ভাষাও রপ্ত করেছিলেন। এ পড়াশোনার পাশাপাশি রাজকুমারী এলিজাবেথ ছবি আঁকা, গান গাওয়া ও ঘোড়ায় চড়া শিখেছিলেন। ১১ বছর বয়সে তিনি গার্লস গাইডে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি একজন সি-রেঞ্জার হন।
রাজকুমারী এলিজাবেথ ও যুবরাজ ফিলিপের প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৩৪ সালে। সে সময় গ্রিসে ফিলিপের চাচাতো ভাই ডিউক অব কেন্টের সঙ্গে রাজকুমারী মেরিনার বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ডিউক অব কেন্ট এলিজাবেথের চাচা ছিলেন। গ্রিসে অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে যোগ দিয়েছিলেন এলিজাবেথ। ওই বিয়েতেই যুবরাজ ফিলিপের সঙ্গে রাজকুমারীর দেখা হয়েছিল। এরপর ওই বছরের ৯ জুলাই এ জুটির বাগদান ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৭ সালের ২০ নভেম্বর ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে যুবরাজ ফিলিপ ও রাজকুমারী এলিজাবেথ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
রানী এলিজাবেথ ও ডিউক অব এডিনবার্গ তাদের ৭৪ বছরের দাম্পত্য জীবনে নির্বিঘ্নে রাজকীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দীর্ঘ সময় তারা একে অপরের পাশে থেকে সহযোগিতা করে গেছেন। রাজকুমারী এলিজাবেথ রাজসিংহাসনে আরোহণ করে রানী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সব কিছু পাল্টে যায়। রানীর স্বামী হিসেবে ডিউক অব এডিনবার্গ তখন নতুন মর্যাদা পান। এই সুখী দম্পতি চারটি সন্তান, আটজন নাতি ও এগারোজন প্রপৌত্রের জন্ম দিয়েছেন। ২০২১ সালে যুবরাজ ফিলিপ মারা যান।
সিংহাসনে আরোহণ
দীর্ঘ সময় রোগে ভুগে ১৯৫২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাজা ষষ্ঠ জর্জ মারা যান। এর সঙ্গে সঙ্গেই রাজকুমারী এলিজাবেথ ব্রিটেনের রাজসিংহাসনে আরোহণ করেন। সে সময় রানীর পদবি অনুসারে সব দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন এলিজাবেথ। ওই বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার সিংহাসনে আরোহণের তারিখ চূড়ান্ত করে জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক উৎসবের আয়োজন শুরু করেছিল ব্রিটেন। পরের বছর ১৯৫৩ সালের ২ জুন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ওই দিন ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ ড. জিওফ্রে ফিশারের পরিচালনায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেন রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব
ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথ দ্য চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রধান গভর্নর। তার সাত দশকের শাসনামলে তাকে অনেক বেশি রাষ্ট্রীয় সফর করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু ঐতিহাসিক বিদেশ সফরও রয়েছে। যুক্তরাজ্য ও কমনওয়েলথ জোটের গুরুত্বপূর্ণ নানা সামাজিক পরিবর্তনের সময়ে করা তার এ সফরগুলো রানী এলিজাবেথকে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মর্যাদা এনে দিয়েছে। তিনি দেশের নানা উন্নয়নমূলক সামজিক কর্মকান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি যুক্ত রেখেছেন। নানা দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও স্কুল পরিদর্শন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিদর্শন করা, স্মরণ ও উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
হ্যারি কেন নেই
গত কয়েক বছর ধরে রানী এলিজাবেথের সরকারি বাসভবন উইন্ডসর প্রাসাদ। প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপনের জন্য তিনি এখন বাকিংহাম প্রাসাদে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার সকালে মূল আকর্ষণ ছিল রাজকীয় কুচকাওয়াজ ও রাজকীয় বিমান বাহিনীর আকাশ প্রদক্ষিণ মহড়া। যা উপভোগ করতে রানীর সঙ্গে বাকিংহামের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন তার ছেলে যুবরাজ চার্লস, তার স্ত্রী ক্যামিলা, চার্লসের বড় ছেলে উইলিয়াম, তার স্ত্রী ক্যাথরিন ও তাদের তিন সন্তান। এর আগে রানীর ছোট নাতি যুবরাজ হ্যারি ও ও তার স্ত্রী মেগানও উপস্থিত থাকবেন বলে গুঞ্জন শোনা যায়। তবে এ-সময় হ্যারিকে স্ত্রী মেগান বা তাদের ছেলেমেয়েকে রাজপরিবারের সঙ্গে দেখা যায়নি। রাজপদবি না থাকায় যুবরাজ হ্যারি, তার স্ত্রী মেগান ও রানী এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র যুবরাজ অ্যান্ড্রু এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। পারিবারিক নানা কারণে দূরে সরে যাওয়া রানীর ছোট নাতি যুবরাজ হ্যারি ও ডাচেস অব সাসেক্স ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল এই উদযাপনে যোগ দিয়েছেন। তবে প্রথম দিনের উৎসবে যোগ না দেয়া মেগান-হ্যারি কাছের এক প্রাসাদের জানালা থেকে ওই সেনা মহড়া দেখেছেন। পরের দিন শুক্রবার রানীর শাসনের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে যোগ দেন হ্যারি ও মেগান। গত কয়েক দিনের এই জুবিলি অনুষ্ঠানে বিশেষ রীতির পোশাক পরে নাচে অংশ নিয়েছেন এই দম্পতি। শনিবার মেগান-হ্যারির মেয়ে লিলিবেটের প্রথম জন্মদিন। রানীর অনুমতি না নিয়েই তার নামে মেয়ের নাম রাখার জন্য বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হ্যারি। বয়সের কারণে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন রানী এলিজাবেথ। উৎসবের শুরুর দিন কিছু সময়ের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়ায় রানী এলিজাবেথ আয়োজন উপভোগ না করে বিশ্রামে চলে গিয়েছিলেন। বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছোট ছেলে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালের অনুষ্ঠানে রানী থাকতে পারবেন না। এমনকি শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানেও থাকবেন না তিনি।
রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রকৃত জন্মদিন ২১ এপ্রিল। এর কয়েক সপ্তাহ পর তার জন্মদিনের উৎসব পালন করা হয়। ২১তম জন্মদিনে রাজকুমারী এলিজাবেথ রেডিওতে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘আমি ঘোষণা করছি, বড় বা ছোট যেমনই হোক না কেন এখন থেকে আমার পুরো জীবন আপনাদের সেবায় উৎসর্গ করা হবে।’ সে সময় থেকে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার জীবন কমনওয়েলথের সেবায় উৎসর্গ করেছেন।