‘এমন রাত আর কখনো আসেনি। ঘর কাঁপছে, ভেঙে পড়ছে জানালার কাচ। ফাটল ধরেছে বাড়ির দেয়ালে। মনে হচ্ছে দুনিয়া কাঁপছে। বাড়িঘর ছেড়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে সবাই।’ গত শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে প্রথমে অগ্নিকান্ড, পরে বিস্ফোরণের পর আশপাশের অন্তত ৪/৫ কিলোমিটার এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা এভাবেই বলছিলেন রাতের ভয়াবহতা।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে মামুন চৌধুরী নামে এক বাসিন্দার বসতঘর। বিস্ফোরণের পর তার ঘরের দরজা, জানালার কাচ ফ্রেমসহ ভেঙে পড়ে। আতঙ্কিত মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম জাহাজভাঙা কারখানায় বড় ধরনের কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি থেকে আমরা সবাই বেরিয়ে আসি। এরপর দেখতে পাই বিএম কন্টেইনার ডিপো থেকে দাউ দাউ করে আগুনের শিখা ওপরের দিকে উঠছে। আধা কিলোমিটার দূর থেকেও আমরা আগুনের তীব্রতা অনুভব করতে পারছিলাম। বাড়ির সবাই কিছুদূরে অবস্থিত এক আত্মীয়ের বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ডিপোর পেছনের বাড়ির মো. রাসেদ বলেন, ‘এ ধরনের আওয়াজ আমরা আগে কখনো শুনিনি। কীসের আওয়াজ বুঝে ওঠার আগেই আমাদের ঘরের জানালার কাচ ভেঙে পড়ে। আমার চাচাদের বৈদ্যুতিক বাতি খুলে নিচে পড়ে যায়। কাঁপুনির ফলে অনেকের ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়ে। এ সময় মাইকে বারবার সবাইকে নিরাপদ দূরত্বে সরে যেতে বলা হচ্ছিল। আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। ৮ কিলোমিটার দূরের কুমিরা থেকে আমাদের এক আত্মীয় ফোন দিয়ে জানতে চান কীসের আওয়াজ হলো। এবার চিন্তা করে দেখেন আওয়াজটা কেমন ছিল।